ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে না গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকেই দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া ও সনদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে সরকারি তিতুমীর কলেজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব দাবি জানান। ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে তাদের পরীক্ষা, শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতা ও সনদ নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে তাদের পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হলে তা দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে। এতে তাদের শিক্ষাজীবন আরও দীর্ঘ হবে এবং কর্মজীবনে প্রবেশে বিলম্ব ঘটবে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের বর্তমান কাঠামোতেই দ্রুত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন তিতুমীর কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের মুরাদ মুস্তাকিন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আফরিনা সানজিদ, রসায়ন বিভাগের জাহিদুল হাসান রনি ও মার্কেটিং বিভাগের অদিতি পাল।
মুরাদ মুস্তাকিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা সম্মিলিতভাবে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।
তিনি জানান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও অনলাইন ভোটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকেই স্নাতক সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর প্রথম দিকের ব্যাচগুলোর সেশনজট কাটাতে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগেছিল। শত বছরের পুরোনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও পরীক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও যদি এমন জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে তাদের শিক্ষাজীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি পাল বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া সনদের ভবিষ্যৎ গ্রহণযোগ্যতা এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কী ধরনের সুযোগ পাবে, সে বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। চার বছরের পড়াশোনা ও পরিশ্রমের মূল্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য সালমা বেগমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
ঢাকার সাত সরকারি কলেজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাত কলেজের মধ্যে রয়েছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

