৪২ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬,

২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬,

২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

৪২ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ৯ আগস্ট ২০২৬

Google News
৪২ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু

আরও ৪২ শীর্ষ ঋণখেলাপির পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১ প্রতিষ্ঠানের পর এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের গোপন সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। এজন্য বিশ্বখ্যাত ৮টি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে আজ বৈঠক বসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটা থেকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন ব্যাংকের এমডি উপস্থিত আছেন। মূলত- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ ১২টি দেশকে প্রধান লক্ষ্য করে পাচারের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের এই কার্যক্রমে কোনো ব্যাংককে অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে সম্পদ অনুসন্ধান করবে। উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে তাদের দিতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শীর্ষ ১১টি গ্রুপের ব্যাংক লুট, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-জালিয়াতি খুঁজতে যৌথ তদন্ত দল গঠন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং আলোচিত ১০টি শিল্প গ্রুপের দেশে ও বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এই ১০ শিল্প গ্রুপ হলো- এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদেশি সম্পদ উদ্ধারে সহায়তা করছে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি ও ডেলয়েটের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশে পাচার করা সম্পদ খুঁজে বের করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৮টি বড় বিদেশি সংস্থাকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলো- গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস। মূলত- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং এর আর্থিক পরিমাণ শনাক্তের কাজ করছে। সম্পদ চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে তা ফ্রিজ বা জব্দ করার ব্যবস্থা করা হবে। পরে আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন পাচার করা জাতীয় সম্পদ উদ্ধার হবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অনাদায়ী বড় অংকের খেলাপি ঋণও আদায় সম্ভব হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের