পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬,

২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬,

২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৫৪, ৮ আগস্ট ২০২৬

Google News
পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এর আর্থিক প্রভাব। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন পিছিয়ে না দিয়ে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে বিকল্প পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন তাদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর করা হবে—সেদিকেই।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের