সালাহউদ্দিন আহমদের গুম: জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬,

২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোববার,

০৯ আগস্ট ২০২৬,

২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

সালাহউদ্দিন আহমদের গুম: জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:২৯, ৯ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩০, ৯ আগস্ট ২০২৬

Google News
সালাহউদ্দিন আহমদের গুম: জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করেন প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর এই মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হতে পারে।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতীয় পুলিশ তাকে শিলংয়ের রাস্তায় ঘোরাফেরা অবস্থায় উদ্ধার করে।

সালাহউদ্দিন আহমদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে তাকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছিল। শিলংয়ে উদ্ধারের পর বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ওই মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ২০১৮ সালে তিনি খালাস পান। এরপরও তাকে ভারতে অবস্থান করতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি।

দেশে ফেরার পর গুমের ঘটনার বিচার চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে অভিযোগ দেন সালাহউদ্দিন। পরে ২০২৫ সালের ৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে আসামি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে উঠে আসে। ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগসংবলিত মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। তখন প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, সালাহউদ্দিন আহমদসহ কয়েকজনকে গুমের ঘটনায়ও জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে ভারতে পাঠানোর ঘটনায় জিয়াউল আহসানের ভূমিকা ছিল। প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও আদালতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুম ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং তা আদালতের বিচারাধীন বিষয়।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য রোববারের আবেদনকে ওই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের