পুরোনো গান দিয়ে মারিয়া ক্যারির অনন্য রেকর্ড

শুক্রবার,

০৯ জানুয়ারি ২০২৬,

২৬ পৌষ ১৪৩২

শুক্রবার,

০৯ জানুয়ারি ২০২৬,

২৬ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

পুরোনো গান দিয়ে মারিয়া ক্যারির অনন্য রেকর্ড

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:২১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
পুরোনো গান দিয়ে মারিয়া ক্যারির অনন্য রেকর্ড

বছরের শেষের দিকে, যখন উত্তরের হাওয়া শীত বয়ে আনে, আর ক্রিসমাস ট্রির ঝকঝকে আলো চোখকে মুগ্ধ করে, তখনই বাজে এক গান; যা শুনলেই মনে হয় আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং উৎসবের খুশি একসঙ্গে মিশেছে। গানটির নাম ‘অল আই ওয়ান্ট ফর ক্রিসমাস ইজ ইউ’। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত এই গানটি শুধু ক্রিসমাসের সময়ই জনপ্রিয় নয়; বরং এটি আধুনিক পপসংগীতের এক যুগান্তকারী রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২০২০ সালে, ‘অল আই ওয়ান্ট ফর ক্রিসমাস ইজ ইউ’ বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক নম্বর হিসেবে রেকর্ড গড়ে, যা মারিয়া ক্যারিকে পপসংগীতে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড এনে দেয়।

৩০ বছরের পুরোনো এই গান, যা শোনা হয় মূলত ডিসেম্বর মাসে, আবারও নতুন প্রজন্মকে মাতাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, সংগীতের শক্তি সময়ের বাঁধন অতিক্রম করতে পারে। গানটি শুধু মারিয়ার কণ্ঠের কারণে নয়; এর গানের কথার সরল অথচ উচ্ছ্বাসময় আবহ, মারিয়ার আবেগপূর্ণ পারফরম্যান্স এবং চিত্তাকর্ষক উৎপাদন এটিকে চিরস্থায়ী করেছে।

প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শ্রোতা যেন এক ধরনের আনন্দময় আবেগের স্রোতে ভেসে চলে। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে গানটি আবার চার্টে উঠে আসে, যা প্রমাণ করে এটি কেবল একটি সিজনাল হিট নয়; বরং একটি সাংস্কৃতিক আইকন।

মারিয়ার অন্য গানগুলোও আধুনিক পপজগৎকে বদলে দিয়েছে। ‘ভিশন অব লাভ’, ‘হিরো’, ‘উই বিলং টুগেদার’ এবং ‘ফ্যান্টাসি’–প্রতিটি গানই শ্রোতার মনে গেঁথে গেছে। তবে ‘অল আই ওয়ান্ট ফর ক্রিসমাস ইজ ইউ’ বিশেষভাবে আলাদা, কারণ এটি একটি গানের চেয়েও বেশি; এটি একটি অনুভূতি, একটি আবেগ, একটি উৎসবের প্রতীক।

সংগীত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গানটির সাফল্যের অন্যতম কারণ হলো এর নির্মল এবং আনন্দময়তা, যা সমস্ত বয়সের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম। ক্রিসমাসের ঘরে বসে, বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে গানটি বাজলেই মুহূর্তে উচ্ছ্বাস এবং আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক সংগীতের জগতে এমন ঘটনা বিরলই বলা যায়–একটি গান এতদিন পরও নতুন প্রজন্মকে এতটা সহজে প্রভাবিত করতে পারে।

মারিয়া ক্যারির সংগীতযাত্রা দীর্ঘ এবং বহুমাত্রিক। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে তিনি এমন এক শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, যিনি শুধু কণ্ঠ নয়; বরং একটি ব্র্যান্ড এবং সংগীতের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর প্রথম অ্যালবামেই তিনি দেখিয়েছিলেন, উচ্চস্বরে গাইতে পারা ও আবেগপূর্ণ কণ্ঠের সঙ্গে মিলিয়ে সংগীত কতটা শক্তিশালী হতে পারে। পরবর্তী দশকগুলোতে, তাঁর গানগুলো চার্টে শীর্ষে ওঠে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় এবং একাধিক রেকর্ড গড়ে। 

মারিয়া ক্যারি এমন একজন শিল্পী; যিনি সংগীত জগতে এক যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। তাঁর প্রতিটি গান, প্রতিটি নোট এবং প্রতিটি পারফরম্যান্স আজও শ্রোতার হৃদয়ে জীবন্ত এবং প্রতিটি ডিসেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কিছু গান সত্যিই চিরকাল ধরে বেঁচে থাকতে পারে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের