ভাত ছাড়া অনেক বাঙালির একবেলা খাবারও যেন কল্পনা করা যায় না। কিন্তু সেই পরিচিত সাদা ভাতেই যদি লুকিয়ে থাকে ক্ষতিকর আর্সেনিক? সম্প্রতি এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পুষ্টিবিদ জিব অ্যাটকিনস।
নিজের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি বলেন, বেশিরভাগ চালেই কমবেশি আর্সেনিক থাকে, যা দীর্ঘদিন ধরে শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসার, হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। তার দাবি, বিশেষ একটি রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভাতের আর্সেনিকের পরিমাণ প্রায় ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
যেভাবে রান্না করবেন
প্রথমে চাল পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে দুই থেকে তিনবার ধুয়ে নিন। এতে কিছুটা আর্সেনিক দূর হতে পারে।
২. বেশি পানিতে চার মিনিট ফুটান
এক কাপ চালের জন্য চার কাপ পানি ব্যবহার করুন। পানি ফুটে উঠলে তাতে চাল দিয়ে চার মিনিট জ্বাল দিন। এই ধাপটিকে বলা হয় ‘পারবয়েলিং’।
৩. পানি ফেলে আবার রান্না করুন
চার মিনিট পর ফুটানো পানি ফেলে দিন। এরপর চাল একবার ধুয়ে আবার এক কাপ চালের জন্য দুই কাপ পানি দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রান্না করুন।
ভাত আরও স্বাস্থ্যকর করার দুই উপায়
এক চা-চামচ নারকেল তেল
ভাত রান্নার সময় এক চা-চামচ নারকেল তেল যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন জিব অ্যাটকিনস। তার মতে, এতে ভাতের কিছু অংশ ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ রূপান্তরিত হয়, যা অন্ত্রের জন্য উপকারী।
ঠান্ডা করে খান
রান্না করা ভাত কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা অবস্থায় খেলে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এটি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি, হজমের উন্নতি এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো তথ্য অনুসরণের আগে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

