মহাকাশে দীর্ঘদিন মানুষের বসবাস ও সুস্থতা নিশ্চিতে বড় উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীনের মানব মহাকাশযান সংস্থা। আগামী পহেলা এপ্রিল থেকে সংস্থাটি মহাকাশে মানব গবেষণা কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেয়।
এই গবেষণা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে মহাকাশ কেন্দ্রে ভ্রমণ ও চাঁদে মানুষ অবতরণের পর দীর্ঘসময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকার বৈজ্ঞানিক দিকগুলো খতিয়ে দেখা। এর মাধ্যমে একটি ‘স্পেস হিউম্যান অ্যাটল‘ বা ‘মহাকাশে মানুষের শারীরবিদ্যার সামগ্রিক মানচিত্র’ তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে গড়ে তোলা হবে একটি বিশদ গবেষণা তথ্য সংরক্ষণাগারও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণার ফলাফল শুধু মহাকাশচারীই নয়, পৃথিবীর সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়নেও কাজে আসবে। এটি চীনের মহাকাশ ও প্রযুক্তিগত শক্তির নির্মাণকে ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টারও একটি অংশ।
গবেষণায় মানুষের নমুনা, কোষ এবং অর্গানয়েড যা কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট কোষ বা কলার একটি পিণ্ড ব্যবহার করে মহাকাশে হাড় ও পেশির পরিবর্তন, দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণে হৃদযন্ত্র, রক্তনালী, বিপাকক্রিয়া, মস্তিষ্কের কাজ এবং বার্ধক্যের ওপর প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চলবে।
চীনের মহাকাশ স্টেশনে ইতোমধ্যে মহকাশ মেডিসিন গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৩ এর জুনে আহ্বান করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩৮৭টি জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৫৩টি বাস্তবায়িত হয়েছে।
২০৩০ এর মধ্যে মানুষ পাঠানোর মাধ্যমে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। চলতি বছরে থিয়াংকং স্টেশনে আরও দুটি মহাকাশ মিশন পাঠানো হবে, যার মধ্যে একজন মহাকাশচারী এক বছরেরও বেশি সময় কক্ষপথে অবস্থান করবেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

