ইয়ুননানে হাতির অবাধ বিচরণ, ক্যামেরায় সাম্বার পরিবার

মঙ্গলবার,

২৫ আগস্ট ২০২৬,

১০ ভাদ্র ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

২৫ আগস্ট ২০২৬,

১০ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

ইয়ুননানে হাতির অবাধ বিচরণ, ক্যামেরায় সাম্বার পরিবার

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ২৫ আগস্ট ২০২৬

Google News
ইয়ুননানে হাতির অবাধ বিচরণ, ক্যামেরায় সাম্বার পরিবার

চীনের প্রকৃতি আবার ফিরে পাচ্ছে হারানো প্রাণ। নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ইয়ুননানের হাতিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি সেখানে নির্ভয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে একপাল বুনো হাতি। আবার ওই হাতির কারণে ফসলের ক্ষতি হলে পাওয়া যাচ্ছে ক্ষতিপূরণ। অন্যদিকে, লাংশাং নদীর প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় ইনফ্রারেড ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তিনটি সাম্বার হরিণের একটি পরিবার।

চীনের ইয়ুননান প্রদেশের একটি পাহাড়ি গ্রামীণ সড়ক। যেখানে কিছুটা অবসর ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় আটটি বুনো এশীয় হাতিকে। দলে ছিল কয়েকটি শাবকও। সম্প্রতি এদের চলাচলের দৃশ্য ধারণ করা হয় আকাশ থেকে।

প্রাপ্তবয়স্ক হাতিগুলোকে শাবকদের ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। বন থেকে বেরিয়ে প্রথমে তারা মাটির পথ ধরে এগুতে থাকে। পথে ঘাস ও কলাপাতা খেতে খেতে বেশ কিছুটা সময় কাটায়। পরে একটি গ্রামীণ সড়কে উঠে ধীরগতিতে চলতে থাকে পুরো দলটি। হাতির এই দলটির চলাফেরা এবং গতিবিধি এখন নেট দুনিয়ায় আলোচনায়।

এই হাতিগুলোর গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ার হাতি পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান তিয়াও ফাসিং জানান,  হাতিগুলোর চলাফেরায় নির্দিষ্ট সময়সূচি আছে। সাধারণত বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তারা খাবারের সন্ধানে বন থেকে বের হয়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের গতিপথ আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আশপাশের গ্রামবাসীদেরও আগে থেকে সতর্ক করা যাচ্ছে।

হাতির দল সড়কের কাছাকাছি এলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসিয়ে দিচ্ছে। এতে মানুষ ও হাতির সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কমছে। অন্যদিকে, হাতির খাবারের সন্ধানে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চালু হয়েয়েছে বিশেষ ক্ষতিপূরণভিত্তিক বীমা ব্যবস্থা।

ইয়ুননানের বুনো এশীয় হাতি নিয়ে এর আগেও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ এর আগস্ট পর্যন্ত ‘শর্ট-নোজ পরিবার’ নামে পরিচিত একটি হাতির পাল প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রদেশটিতে ঘুরে বেড়ায়। তাদের দীর্ঘ এই যাত্রা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতির সহাবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

এশীয় হাতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় ‘বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত।

এদিকে, ইয়ুননানের লানছাং নদী প্রাদেশিক প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় সম্প্রতি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিরল সাম্বার হরিণের একটি পরিবার। বনের ভেতরে বসানো ইনফ্রারেড ক্যামেরায় তিনটি সাম্বার হরিণকে একসঙ্গে ঘোরাফেরা ও খাবার সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। চীনে সাম্বার হরিণ দ্বিতীয় শ্রেণির রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী। সূত্র: সিএমজি বাংলা
 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের