চলতি বছর চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য দ্বিমুখী ভারসাম্য বজায় রেখেছে। আমদানি বৃদ্ধির গতি টানা ৫ মাস রপ্তানির গতিকে ছাড়িয়ে যায়। চীন বৈশ্বিক বাজারের সুপার বিক্রেতা এবং পাশাপাশি, বড় ক্রেতা। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে, চীনের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।
বছরের প্রথমার্ধে চীনের আমদানি ছিল ১০.৭৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান; চীন ৬৩টি দেশের ওপর শূন্য শুল্ক আরোপ করে; শুল্কের সাধারণ মান ৭.৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়। একই সময় চীন প্রায় ৮০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রধান রপ্তানি-গন্তব্য এবং টানা ১৭ বছর ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিবাজার। এক্ষেত্রে চীনের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশ।
একদিকে, চীনের উত্পাদন-শিল্প লৌহ আকরিক ও ইলেকট্রনিক উপাদানের মতো কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশের বিপুল পরিমাণে আমদানি ত্বরান্বিত করে; অন্যদিকে, আফ্রিকান দেশুগুলোর ওপর শূন্য শুল্কনীতির ওপর নির্ভর করে, আফ্রিকান কফি বিনের মতো পণ্যের ব্যয় কমেছে। চীনের সুপার স্কেল বাজারের শক্তিশালী চৌম্বকীয় আকর্ষণ বল পাশাপাশি সারা বিশ্ব থেকে উচ্চমানের ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করে। আমদানি মেলা ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে, বিশ্বের বৈশিষ্ট্যময় পণ্য দ্রুততার সাথে চীনা বাজারে প্রবেশ করে। শুধু আফ্রিকান দেশ নয়, আরও বেশি দেশ চীনকে মূল বাজার হিসেবে দেখে। উচ্চমানের পণ্য ‘চীনে রপ্তানি’ ঠিক চীনের বিপুল পণ্যভোগ গ্রুপ এবং সুসম্পূর্ণ শিল্প-শৃঙ্খল সহায়ক সুবিধাগুলি এবং টেকসই উন্মুক্ত দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গীর কদর করে।
বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, চীনের সুপার স্কেল বাজারের আমদানিকৃত প্রাণশক্তির নিরন্তর মুক্তি, বৈশ্বিক সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীল অপারেশন, বিশ্ব বাণিজ্যের বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী চালিকাশক্তি যোগায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন শুধু পণ্যের রপ্তানি-গন্তব্য নয়, বরং বৈশ্বিক চাহিদার নির্দেশক। উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ এবং শিল্প সহায়ক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, চীন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ অব্যাহত রেখে, বৈশ্বিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে মূল অবস্থানকে সুসংহত করছে।
একটি আরও বড় চীনা বাজার বৈশ্বিক পণ্য, সম্পদ, প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের গুরুত্বপূর্ণ কাঙ্ক্ষিত স্থানে পরিণত হচ্ছে। চীনা বাজার শুধু পণ্যের গন্তব্য নয়, বরং বৈশ্বিক শিল্প-শৃঙ্খলের সুযোগ ভাগাভাগির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সূত্র: সিএমজি
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

