মাটির নিচ থেকে ভেসে আসছে সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের অদৃশ্য সংকেত। কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কিংবা কোদালের আঁচড়ে নয়; দূর থেকেই মাটির গভীরে তৈরি করা হচ্ছে এক ত্রিমাত্রিক বৈদ্যুতিক জরিপ। মধ্য চীনের সিয়ান শহরের ছিংলোংসান ডাইনোসর এগ ফসিল সংরক্ষণাগারে চলছে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা।
বিশ্বে প্রথমবার সম্পূর্ণ এই থ্রি-ডি ইলেকট্রিক্যাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসিল এলাকার ভূ-গর্ভস্থ গঠন মানচিত্র তৈরি করছেন একদল বিজ্ঞানী। মাটির ওপর দীর্ঘ কেবল ও ইলেকট্রোড বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র। বিভিন্ন পাথরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ মেপে নিখুঁতভাবে উদঘাটন করা হচ্ছে ভূ-গর্ভের অজানা তথ্য।
হুবেই ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সের উপ-প্রধান প্রকৌশলী চা পি বলেন, ‘এই ইলেকট্রোড পয়েন্টগুলো দিয়ে আমরা মাটির নিচের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রটি পুরোপুরি স্ক্যান করছি। আমাদের মূলত দুটো তথ্য দরকার। ফসিল থাকা লাল বেলেপাথরের স্তরটি কতটা পুরু এবং এটি কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভূ-গর্ভস্থে জমে থাকা পানি। এই পানি ডায়ানসরের ডিমগুলোকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা সেই পানির উৎসও খুঁজে বের করতে চাই।’
ছিংলোংসান হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সেরা সংরক্ষিত ডাইনোসরের ডিমের ফসিল সাইট। এতদিন প্রচলতি সিস্টেমে ড্রিলিং করলে এই অমূল্য সম্পদ ধ্বংসের বড় ঝুঁকি থাকত। কিন্তু নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটুকু ক্ষতি না করেই মাটির ফাটল এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করবে।
এই গবেষণা শুধু সুরক্ষাই দেবে না, খুলে দেবে সাড়ে ১৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের ক্রেটাসিয়াস যুগের অজানা দুয়ার। কোটি বছর আগের সেই মহাবিশ্বে কেমন ছিল পৃথিবীর জীবনধারা, সেই সন্ধানেই চালাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

