মেসি যেভাবে আর্জেন্টিনায় ‘অপ্রিয়’ থেকে ‘দেবতার আসনে’

মঙ্গলবার,

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

মেসি যেভাবে আর্জেন্টিনায় ‘অপ্রিয়’ থেকে ‘দেবতার আসনে’

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:২৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
মেসি যেভাবে আর্জেন্টিনায় ‘অপ্রিয়’ থেকে ‘দেবতার আসনে’

"আমি দিব্যি খেয়ে বলছি, আমি সবসময়ই শতভাগ দিয়েই খেলেছি। এমন না যে শুধু শেষ কয়েক বছর, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি। যখন কিছু জিততে পারিনি, তখনও আমি চেয়েছি আর্জেন্টিনার মানুষ ফুটবলের মধ্য দিয়ে গর্ববোধ করুক।"

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে লিওনেল মেসি বিদায় জানালেন ফুটবলকে; তার শেষ কিছু কথায় উঠে এসেছে এই কটি লাইন।

এই কয়েকটি কথা দিয়ে মেসি যেন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন আজকের তারিখ থেকে অন্তত এক দশক আগে- যখন একের পর এক প্রাপ্তি গোলবার ঘেঁষে ফিরে যাচ্ছিল, যখন নিজের দেশেই তাকে নিয়ে উঠেছিল কঠোর সমালোচনার ঝড়।

সেই 'অপ্রিয়' মেসি থেকে আজকের 'দেবতুল্য' মেসি হয়ে ওঠার পথটাই এই গল্পের কেন্দ্রে।

কেন এই সময়ে বিদায়ের ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিলেও এখন বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে।

৩৯ বছর বয়সী মেসি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১২৫- ফলে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার।

এক বিবৃতিতে মেসি বলেন, জাতীয় দলের জন্য তিনি নিজের সবকিছুই দিয়েছেন, এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই।

"সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জীবনের একেকটি অধ্যায় শেষ হয়, আর এই অধ্যায়টি শেষ করার সিদ্ধান্ত আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে," তিনি বলেন।

"জাতীয় দলের অংশ হতে আমি ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সবসময় ভালোবেসে যাব। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি, এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। পাশাপাশি আমার পেছনে কিছু অসাধারণ তরুণ ফুটবলার উঠে আসছে, তারাও সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।"

এক দশক আগে যখন প্রথম 'বিদায়' বলেছিলেন মেসি

নীল-সাদা জার্সিতে মেসির সবচেয়ে সফল সময়টা দেখার সুযোগ থেকে বিশ্ব প্রায় বঞ্চিতই হতে বসেছিল তখন।

২০১৬ সালের ২৬ই জুন, রোববার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিলেন মেসি। তখন তার ২৯তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন পেরিয়েছে। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। সেই হারের পর মেসির মনে হয়েছিল, এবার যথেষ্ট হয়েছে।

এই ব্যর্থতা ছিল আরও দীর্ঘ এক তালিকার সর্বশেষ সংযোজন মাত্র। ২০০৭ ও ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল, ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজয়, একের পর এক শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার এই ধারাবাহিকতাই ২০১৬ সালে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।

জাতীয় দলের হয়ে ১১৩ ম্যাচ খেলার পর নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন মেসি। চোখের পানি সামলাতে সামলাতে তিনি বলেছিলেন, "আমার জন্য জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ। আমি যতটুকু পারি, সব করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার কষ্টটা খুব বেশি। এটিই ছিল আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া, কিন্তু আমি তা অর্জন করতে পারিনি। তাই মনে হয়, এখানেই সব শেষ- সবার জন্যই এটা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।"

সমর্থকদের জন্য 'সৌভাগ্যবশত' পরে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার ভাবেন মেসি। কিন্তু দর্শকদের ওপর তার আধিপত্য পরে দেখা গিয়েছিল, সেই অধ্যায়টি শুরুও না হতে পারতো তার সিদ্ধান্ত না পাল্টালে।

সেই কঠিন সময়গুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। মেসির অবসরের পর তিনি বলেন, বছরের পর বছর তিনি দেখেছেন মেসিকে কষ্ট পেতে, হোঁচট খেতে এবং আবার উঠে দাঁড়াতে। স্বপ্ন পূরণ না হলেও মেসি কখনো চেষ্টা থামাননি, বারবার ব্যর্থতার পরও ফিরে এসেছেন এবং বিশ্বাস ধরে রেখেছেন।

রোজারিওর সেই ছেলেটি, যাকে নিয়ে সন্দেহ ছিল
আর্জেন্টিনার তৃতীয় বৃহত্তম শহর রোজারিওতে জন্ম মেসির। শ্রমজীবী পরিবারের এই ছোট ছেলেটির ফুটবল প্রতিভা খুব অল্প বয়সেই নজর কাড়ে।

তার ছোটবেলার এক কোচ স্মরণ করেছিলেন একটি ঘটনা- রোজারিওর মাটির মাঠে একদিন খেলার সময় চার বছর বয়সী মেসির পায়ের কাছে বল এসেছিল।

ছোট্ট, লাজুক মেসি প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি কী করবেন, বলটি চলে যেতে দেন। এরপর আরেকটি বল এলো তার কাছে, আর সেই বলের দিকে তাকিয়েই যেন বদলে গেল সবকিছু।

মেসি দৌড়াতে শুরু করলেন, পায়ের সামনে বল ঠেলে একের পর এক প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেললেন। সম্ভবত সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল ফুটবলের এক অসাধারণ গল্প।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার এক স্কাউট তাকে স্পেনে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। মেসির চিকিৎসার জন্য তখন গ্রোথ হরমোন থেরাপি প্রয়োজন ছিল, যার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন ছিল, বার্সেলোনা সেই খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নেয়।

২০০১ সালে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই মেসির জীবনে আসে এই বড় পরিবর্তন।

বাবা তাকে নিয়ে চলে যান স্পেনে, মা ও তিন ভাইবোন থেকে যান রোজারিওতে। অল্প বয়সে নিজের শহর, পরিবার আর দেশ থেকে দূরে চলে যাওয়া- এটিই হয়ে ওঠে মেসির জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিদেশে বেড়ে ওঠা এবং বার্সেলোনায় ফুটবলের সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়ার পরও আর্জেন্টিনার হয়ে জেতার স্বপ্ন ছাড়েননি মেসি।

অনেকের মতে, দেশ ছাড়ার পর থেকেই জাতীয় দলের হয়ে বড় কিছু জেতার ইচ্ছা তার ভেতরে আরও গভীর হয়েছিল। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে একের পর এক সাফল্য এলেও জাতীয় দলের হয়ে ব্যর্থতা বারবার তার পথ আটকে দিচ্ছিল, আর তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছিল সমালোচনা।

ম্যারাডোনার ছায়া আর 'পেচো ফ্রিও' তকমা
সেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার এসেছে একটি নাম- দিয়েগো ম্যারাডোনা।

২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে মেসির প্রথম অবসরের কিছুদিন আগে ম্যারাডোনার একটি মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, মেসি খুব ভালো মানুষ হলেও তার ব্যক্তিত্ব নেই এবং নেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চরিত্রের ঘাটতি রয়েছে।

অথচ সেই সময় ৩০ বছর বয়সও পার করেননি মেসি, ইতোমধ্যে বার্সেলোনার হয়ে জিতে ফেলেছিলেন আটটি লা লিগা, চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর পাঁচটি ব্যালন ডি'অর।

কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে তার তখনকার বড় অর্জন বলতে ছিল শুধু ২০০৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক- আর মারাদোনা প্রায় একক নৈপুণ্যে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন বলে মনে করেন তার ভক্তরা।

তাই মেসির প্রতিটি ব্যর্থতার পর তুলনাটা আরও তীব্র হয়ে উঠত- "সে দিয়েগোর মতো ভালো নয়", "বড় ম্যাচে তাকে পাওয়া যায় না", "দেশের ব্যর্থতার অংশ সে"।

এই সময়েই আর্জেন্টিনায় মেসিকে ডাকা হতো 'পেচো ফ্রিও' নামে, স্প্যানিশ শব্দ, অর্থ 'ঠান্ডা বুক'। অপমানসূচক এই মন্তব্যের অর্থ ছিল, চাপের মুহূর্তে মেসির মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেগ বা লড়াইয়ের মানসিকতা নেই।

অথচ মেসির জীবনী লেখক ও স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিয়েম বালাগের ভাষায়, হারলে মেসি ভেতরে ভেতরে গভীরভাবে ভেঙে পড়তেন। অধিনায়কত্বের চাপ আর ম্যারাডোনার সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা তাকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে ফেলেছিল- আর ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর সেই চাপ পৌঁছায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, জন্ম নেয় তার প্রথম অবসরের সিদ্ধান্ত।

মেসি নিজেও পরে স্বীকার করেছেন এই দ্বৈত বাস্তবতার কথা, "কেন কিছু আর্জেন্টাইন আমাকে চাইত না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। তবে দেখতাম, বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে- যেন আমি দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত বাস্তবতায় বাস করছি। বার্সেলোনায় আমি নিয়মিত জিতছি, সবার সমর্থন-ভালোবাসা-সম্মান পাচ্ছি। অথচ আর্জেন্টিনায় পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, চারদিকে শুধু সমালোচনা।"

তবু সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি মেসি।

তার বিশ্বাস ছিল, পরিশ্রম, ত্যাগ, কঠোর চেষ্টা আর বিনয় থাকলে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, "পথ কঠিন হতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। আমি সবসময় ফুটবল খেলতে ভালোবাসতাম, জাতীয় দলে আসতে ভালোবাসতাম। কিন্তু এখনকার মতো করে জাতীয় দলের হয়ে খেলা আমি আগে কখনও উপভোগ করিনি।"

ফেরা এবং অবশেষে পূর্ণতা
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব নেন এদগার্দো বাউজা, জেরার্দো মার্তিনোর জায়গায়- মাত্র আট মাসের জন্য।

কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কাজেই তিনি বার্সেলোনায় গিয়ে মেসির সঙ্গে দেখা করেন, তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি করাতে। দেশজুড়ে ততদিনে মেসিকে ফেরানোর দাবি উঠেছে। শেষ পর্যন্ত সেই আবেগের কাছে ফিরে আসেন মেসি।

ফেরার সময় তিনি বলেছিলেন, "আমি এই দেশ আর এই জার্সিকে অনেক বেশি ভালোবাসি। যারা আমাকে খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি খুব শিগগির তাদের আনন্দ করার মতো কিছু দিতে পারব।"

কিন্তু ফিরে এলেই সাফল্য আসেনি। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা, আর অনেকেই তখন ভেবেছিলেন মেসির পক্ষে আর কখনও বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হবে না।

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হওয়া মেসিকে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় শিরোপার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা।

এরপরের তিন বছরেরও কম সময়ে মেসির নেতৃত্বে দলটি জিতে নেয় চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা- ওয়েম্বলিতে ফিনালিসিমা এবং সবচেয়ে বড় অর্জন, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ, যেখানে পরিবারের সামনেই একসময়ের অধরা স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি।

আন্তোনেলার ভাষায়, তাদের সন্তানরা খুব কাছ থেকে দেখেছে বাবার লড়াই, না হার মানার মানসিকতা এবং শেষ পর্যন্ত স্বপ্নকে সত্যি করে তোলার গল্প।

প্রতিটি শিরোপার পরই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি খেলা চালিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন তিনি- তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।

বয়স তখন ৩৯, আগের মতো গতি ছিল না, ম্যাচে তাকে অনেক সময় ধীরগতিতে হাঁটতে দেখা গেছে। কিন্তু তাতেও কার্যকারিতা কমেনি- আটটি গোল আর চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে তার নেতৃত্বে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় আর্জেন্টিনা।

শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়, আর সেই ফাইনালটি হয় সেই একই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে ঠিক এক দশক আগে মেসি প্রথমবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সমালোচনা যেভাবে বদলে গেল ভালোবাসায়
লিওনেল মেসি নিজেও স্বীকার করেছেন, একসময় নিজের দেশেই তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিরূপ আচরণের মুখে পড়তে হয়েছিল, যার কষ্ট তার পরিবার আর প্রিয়জনরাও পেয়েছিলেন।

ডিজনি স্টার প্লাসের 'চ্যাম্পিয়নস, আ ইয়ার লেটার' অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আমি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আর্জেন্টিনায় সমালোচকেরা খেলোয়াড়দের একটি প্রজন্মের প্রতি খুবই অন্যায় আচরণ করেছে। আমাকে নিয়ে অনেক খারাপ কথাও বলা হয়েছে। আমি প্রতিহিংসাপরায়ণ নই, কিন্তু এত কিছুর পর কষ্ট না পাওয়াটা অসম্ভব।"

কিন্তু বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

"এখন আমি দেখি অনেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে গেছে। এই পরিবর্তন এবং আর্জেন্টিনার সব মানুষের ভালোবাসা জয় করতে পারাটাকে আমি নিজের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখি। আজ দেশের ৯৫ কিংবা ১০০ শতাংশ মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এই অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ।"

সেই ২০১৬ সালের রাতটির কথা মনে করে আর্জেন্টিনার এক সমর্থক বেঞ্জামিন বলেন, মেসির তখনকার অবসর-ঘোষণাই মানুষকে বুঝিয়েছিল তারা তাকে কতটা ভালোবাসে।

"মেসি যখন অবসর নিল, আমি কেঁদেছিলাম, পুরো দেশ কেঁদেছিল। তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটাও ছিল কারণ মানুষ তাকে এত বেশি ভালোবাসত এবং তার কাছে এত বেশি প্রত্যাশা করত। লিওনেল মেসি না থাকলে আর্জেন্টিনা হয়তো এখনও ১৯৮৬ সালের পর পরবর্তী বিশ্বকাপের অপেক্ষায় থাকত।"

অর্থাৎ, যে সমালোচনা একসময় মেসিকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে বাধ্য করেছিল, সময়ের সঙ্গে সেই একই আবেগ পরিণত হয়েছে গভীর ভালোবাসায়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের