বৃহৎ খেলাপি ব্যবসায়ী, যাদের এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে তাদের আবারও সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ থাকলে তা পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে বাড়তি সময় দিচ্ছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (বিআরপিডি-১) গাজী মো. মাহফুজুল ইসলামের সই করা ওই সার্কুলারে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতি সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকল্পে নিম্নোক্ত নির্দেশনা দেয়া হলো:
১) বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-০৭/২০২৫ এর আওতায় নীতি সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নতুন আবেদন দাখিল করা যাবে।
২) যেসব ঋণগ্রহীতা ‘ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ থেকে নীতি সহায়তা গ্রহণ করেছেন, সেসব ঋণ গ্রহীতা ব্যাংকে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-০৭/২০২৫ এর আওতায় নতুন আবেদন দাখিল করতে পারবে।
৩) কোনো ঋণগ্রহীতা (একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ) কর্তৃক নীতি সহায়তার আওতায় বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য আবেদনকৃত ঋণ হিসাবগুলোর ঋণ স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা এর বেশি হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ওই ঋণ হিসাবগুলো বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে। আর বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১৬/২০২২ এর অনুচ্ছেদ নম্বর ৬(১) এ বর্ণিত মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৪ বছর মেয়াদ নির্ধারণপূর্বক পুনর্গঠন করা যাবে।
৪) কোনো ঋণগ্রহীতা (একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ) কর্তৃক আবেদনকৃত ঋণ হিসাবগুলোর ঋণ স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকার কম হলে ওই ঋণ হিসাবগুলো বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-০৭/২০২৫ এ বর্ণিত মেয়াদ প্রযোজ্য হবে।
৫) যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোপূর্বে বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-০৭/২০২৫ অথবা বাছাই কমিটির আওতায় নীতি সহায়তা গ্রহণ করেছেন, সেসব ঋণগ্রহীতাকে অনুচ্ছেদ ২(গ) ও ২(ঘ) এ বর্ণিত সুবিধা প্রদান করা যাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত সময় এ সার্কুলারে বর্ণিত গ্রেস পিরিয়ডের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে।
৬) নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত (STD-0, 1, 2, SMA) ঋণগুলোকে সূত্রোক্ত সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনানুযায়ী বিশেষ পুনর্গঠনজনিত সুবিধা এবং বিরূপমানে শ্রেণিকৃত (SS, DF, B/L) ঋণগুলোকে বিশেষ পুনঃতফসিলজনিত সুবিধা প্রদান করা যাবে।
৭) এ সার্কুলারের আওতায় সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণপূর্বক ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে ব্যাংক কর্তৃক নিষ্পত্তি করতে হবে।
৮) সূত্রোক্ত সার্কুলার ও এর অনুবৃত্তিক্রমে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৯(১) (চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

