রোববার,

১৬ মে ২০২১

আত্মহত্যাকারীর জানাজায় যাওয়া যাবে কী?

প্রকাশিত: ১২:৫১, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ১১:২৮, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আত্মহত্যাকারীর জানাজায় যাওয়া যাবে কী?

প্রতীকী ছবি

ইসলামে আত্মহত্যাকে মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরপরও এমন অনেকই আছে, যারা জীবনযাপনের কঠিন দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে রক্ষা পেতে অথবা জেদের বশবর্তী হয়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। অথচ ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা ও আস্থা থাকলে কারও আত্মহত্যার মতো পথে চলতে হয় না।

আত্মহত্যা থেকে দূরে থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর কঠোর শাস্তির বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)

যারা আত্মহত্যা করেন তাদের জানাজায় যাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন।মুসলমান হিসেবে আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি বা নারীর জানাজায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে ইসলাম কি বলছে তা জেনে নিন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তাহলে যে পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করেছে, তাকে কেয়ামতের ময়দানে একই পদ্ধতিতে শাস্তি দেওয়া হবে। নিরাশ হয়ে কোনো মুসলিম আত্মহত্যা করতে পারেন না। কারণ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ শুধু কাফেররা হতে পারে। কোনো বিশ্বাসী ব্যক্তি, যার আল্লাহর প্রতি ভরসা থাকবে, সে কখনো নিরাশ হতে পারবে না। এ জন্য একজন মুসলিম কখনো আত্মহত্যা করতে পারেন না। যদি আত্মহত্যা করেন, সেক্ষেত্রে তিনি কবিরা গুনাহে লিপ্ত হলেন। এই ব্যক্তির জন্য আমরা দোয়া করতে পারব, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারব। যেহেতু তিনি পাপ কাজ করে দুনিয়া থেকে গেছেন। আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করতেও পারেন।

সাধারণ মানুষ অবশ্যই তার জানাজায় শামিল হবে। অনেকে মনে করেন তার জানাজা পড়া যাবে না। তিনি তো মুসলিম, তাই অবশ্যই তার জানাজা পড়তে হবে। তবে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি যেমন ইমাম সাহেব তার জানাজায় যাবেন না, শুধু অন্য সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে তোমরা যদি আত্মহত্যার পথ বেছে নাও, তাহলে তোমাদের এই পরিণতি হবে।