কুম্ভ মেলার সময় রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের শুরুতে কুম্ভ মেলার সময়ই মন্দিরে সর্বোচ্চ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই শ্যালক—লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র—সর্বাধিক অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অযোধ্যা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—অভিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামাশঙ্কর যাদব ওরফে টিনু যাদব। মঙ্গলবার তাদের দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে কুম্ভ মেলার সময় ভিড় ও দানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা সংগঠিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুরো ঘটনার পরিকল্পনায় আটজনই জড়িত ছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ উঠেছে লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্রের বিরুদ্ধে। চুরি করা অর্থ দিয়ে তারা একাধিক সম্পত্তি কিনেছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে তাদের নামে ছয়টিরও বেশি সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
অর্থের উৎস ও লেনদেন যাচাইয়ে আয়কর বিভাগের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকজন স্টেট ব্যাংক (SBI) কর্মীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। অর্থপাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, রাম মন্দিরে নগদ দানের অর্থ গণনার দায়িত্বে ছিল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI)। চারটি দানবাক্সের অর্থ গণনায় একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ১৪ সদস্যের একটি দল কাজ করত, যার মধ্যে ১১ জন ব্যাংক কর্মী ও তিনজন ট্রাস্টের সদস্য ছিলেন।
পুলিশের দাবি, দানবাক্সের অর্থ গোনার সময়ই ব্যাংক কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ সরানো হতো। এ ঘটনায় অভিযুক্ত টিনু যাদবের বাড়ি থেকেও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আগে মন্দির ট্রাস্টের এক শীর্ষ কর্মকর্তার গাড়িচালক ছিলেন।
এ ছাড়া, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় তাদের আয় ও ঘোষিত আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা যায়, একটি যোগকেন্দ্রে লুকানো অবস্থায় বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যা কাপড়ের ভেতরে গোপন রাখা হয়েছিল।
এদিকে, পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আগে ট্রাস্ট নিজস্ব উদ্যোগে কিছু অর্থ উদ্ধার করেছিল বলেও জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো চক্রের অর্থপাচার ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

