ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

শুক্রবার,

০৩ জুলাই ২০২৬,

১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

শুক্রবার,

০৩ জুলাই ২০২৬,

১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৯, ৩ জুলাই ২০২৬

Google News
ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা তিন রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলায় বারবার ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব দাবি করেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তার ভাষায়, ইরানের কোনো কার্যকর রাডার এখন আর নেই।

তিনি বলেন, ইরান নতুন করে একটি আধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছিল। তবে গত সপ্তাহে সেটিও ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরানকে আবার শুরু থেকে নতুন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরো সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌঅভিযান চালিয়েছে, সেটি শুধু অবরোধ ছিল না, বরং ‘ইস্পাতের দেয়াল’ ছিল। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের অভিযানের কারণে একটি জাহাজও ইরানে যেতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরো দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে রয়েছে। তার ভাষায়, দেশটির মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইরান এখন কার্যত কোনো আয় করতে পারছে না।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে চায়। তিনি বলেন, ইরানের খাদ্যশস্যের প্রয়োজন। দেশটির ভুট্টা, গম ও সয়াবিন দরকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরাই ইরানে রপ্তানি করতে পারবেন। ইরান সংঘাতের পর আগের তুলনায় আরো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে—এমন কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চার মাস আগের তুলনায় এখন ইরান ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি এ দাবির সঙ্গে একমত নন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই আর জীবিত নেই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির অনেক নেতাও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বেশির ভাগ জেনারেলও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার কারণও ব্যাখ্যা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে প্রণালিটি বন্ধ করে দিতে পারত। কিন্তু তা করা হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ২১ শতাংশ বন্ধ হয়ে যেত। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত এবং বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিত। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিক দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপদে পার করে দেয় বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রতি রাতে জাহাজগুলোকে এমন একটি পথ দিয়ে নেওয়া হতো, যা ইরানের অস্ত্রের অবস্থান থেকে সবচেয়ে দূরে ছিল। নিরাপত্তার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে জাহাজগুলো কোনো আলো না জ্বালিয়ে উপকূল ঘেঁষে চলাচল করেছে বলেও জানান তিনি।  চারপাশে ছিল সম্পূর্ণ নীরবতা। ফলে নিরাপদেই জাহাজগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরো বলেন, এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ২২টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি পার করে দেয়। তার মতে, এসব জাহাজে বিপুলপরিমাণ তেল ছিল।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের