মাঝরাতে আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়তে লাগল একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। চোখের পলকেই হুড়মুড় করে ধসে পড়ল বহুতল ভবন। চারদিকে শুধু আগুন, ধোঁয়া আর মানুষের আর্তনাদ। ভয়ংকর এই হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ২১ জনের, আর আহত হয়েছেন দুই শিশুসহ ৮৫ জন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলা ঘটেছে। শহরের মেয়র এটিকে রাজধানীর ওপর হওয়া ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে জানিয়েছেন।
টানা ১১ ঘণ্টা ধরে চলে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শহরের ৩৩টি জায়গায় সরাসরি আঘাত হানে। হামলায় একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। রাস্তায় থাকা গাড়িগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, চারপাশ ঢেকে গেছে বারুদের ধূসর ছাইতে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের বাঁচাতে স্বজনদের কান্নার মাঝেই জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে রেড ক্রসের একটি বড় গুদাম। সেখানে থাকা প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের ৩ লাখ ২০ হাজার ত্রাণসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে ওই রাতে প্রায় ৫২ হাজার মানুষ মাটির নিচে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওলেক্সি নামের আহত এক ব্যক্তি জানান, তিনি সিগারেট খেতে বাইরে বের হতেই বোমার আঘাতে উড়ে আসা কাচে আহত হন। অন্যদিকে, সভিতলানা নামের আরেক নারী জানান, এর আগের রুশ হামলায় তিনি তার মা ও ছেলেকে হারিয়েছেন, তাই বোমার শব্দে নতুন করে তিনি ভয় পাননি।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতেই রাশিয়া একই সময়ে নানা ধরনের অস্ত্র দিয়ে এই চতুর হামলা চালিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, নিজেদের লক্ষ্য পূরণে তারা কিয়েভের ওপর এমন চাপ বাড়ানো অব্যাহত রাখবেন। তবে ইউক্রেন এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, রাশিয়া ইচ্ছে করে নিরীহ মানুষ মারছে। এই মহাধ্বংসযজ্ঞের পর আকাশ সুরক্ষিত রাখতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও উন্নত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

