নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় জীবিত এক দম্পতির জানাজা পড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের উখরইল গ্রামের আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ সাধু গত সোমবার বিকালে আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে তাকে এবং তার স্ত্রী মালেকা বেগমকে জীবিত অবস্থায় বরই পাতার গরম পানিতে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরিয়ে বসিয়ে রেখে সাদা কাপড় পরিহিত নারী-পুরুষ সাধুরা জানাজা আদায় করেন। পরে তাদের হাত ও চোখ সাদা কাপড়ে বেঁধে হাতে লাঠি ও মালয় ধরিয়ে দিয়ে তাদেরকে অর্থ-কড়ি দান করেন এবং গ্রামের কয়েক বাড়ি থেকে ভিক্ষা করিয়ে নেন। পরদিন সেখানে গান-বাজনার আয়োজন করা হলে স্থানীয় গ্রামবাসী তাতে বাধা দেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে গিয়ে তাকে বা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্য কোনো সাধুকে পাওয়া যায়নি।
আব্দুল হাই বাবুর মেয়ে হালিমা আক্তার বলেন, তারা চার ভাই ও এক বোন। তাদের বাবা-মা যেভাবে জীবনযাপন করতে চান, তাতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই।
তিনি দাবি করেন, ইসলামের চার তরিকার একটি ধারার রীতিনীতি অনুসারে সংসার জীবন ত্যাগ করে ফকিরি পথে যাওয়ার অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে তিনি কোনো অসঙ্গতি দেখছেন না বলেও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম, মজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, আব্দুল হাই বাবু ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ফকিরি ধারার অনুসারী। গত সোমবার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধুরা তাদের সংসার ত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে জীবিত অবস্থায় জানাজা পড়ান।
তবে এ ঘটনাকে ইসলামবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন উখরইল জামে মসজিদের ইমাম মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, জীবিত মানুষের জানাজা পড়ানোর কোনো বিধান ইসলামে নেই। এটি সম্পূর্ণ ইসলামপরিপন্থী।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

