মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা এবং সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার পার হওয়ার পর সামান্য নেমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে এই জ্বালানি তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ ডলার। তবে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জবাবে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের হামলায় এম/টি রিয়েসকো নামের একটি ট্যাংকার ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে। সেন্টকমের দাবি, এসব ট্যাংকার আইআরজিসির সং সংগে যুক্ত ছায়া অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের অংশ।
মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তেহরান দাবি করে, তারা দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ৭৩ জন আহত হন।
কলম্বিয়া সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যতবার তারা এমন চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।’ বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির ২০ শতাংশ পরিবহনের মাধ্যম কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কারণে বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

