যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের চারটি শহরে মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এতে ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত এবং তেল স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে। ছয় মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে এটিকে বড় ধরনের বিস্তার বলে মনে করা হচ্ছে।
হুতিরা জানিয়েছে, সৌদির ভূখণ্ডে তারা ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত-এর একটি বিমানঘাঁটিতে।
একইসঙ্গে কাছের আবহা শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির স্থাপনা, সীমান্তবর্তী নাজরান এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী জাজানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জাজানের একটি বড় শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে।
সৌদির কর্তৃপক্ষও হুতির উল্লেখ করা এসব স্থাপনায় আগুন ধরার কথা জানিয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৩ জন, তাদের মধ্যে নারী ও শিশু আছে। এত বেশি সংখ্যক মানুষের আহত হওয়ার খবর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সৌদিতে হুতিদের চালানো অন্যতম বড় আঘাত।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলা পরবর্তী কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সৌদি সরকার প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর কঠোর নজর রাখে। তাই কারও সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।
সোমবার সৌদির পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় হামলার পর সেটির ছবি প্রকাশ করেছিল হুতিরা। এতে ঘন ধোঁয়া ও বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। হুতিদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইয়েমেনের জুবাহ জেলায় সৌদি আরবও চার দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
গত আগস্ট মাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আবার লড়াই শুরু হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি বিক্রি হয় ৯৯ ডলারে।
এখন সৌদি আরবে হুতিদের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বাইরেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাব বাড়বে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ লড়াই করছে। সেই পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। এর জেরে সৌদি ও হুতিদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিবাদ গত কয়েক বছর কিছুটা শান্ত থাকলেও সম্প্রতি বেড়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

