সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা করাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছেন অনেক দম্পতি। তবে শুধু চিকিৎসা নয়, এর সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে ভ্রমণও।
খরচ কম হওয়ায় গ্রিস, স্পেন ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে বাড়ছে মার্কিন দম্পতিদের আগ্রহ।ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ফার্টিলিটি ট্যুরিজম বা প্রজনন চিকিৎসাভিত্তিক পর্যটন। যুক্তরাষ্ট্রে আইভিএফের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।
জুলাইয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি আইভিএফ চক্রের গড় খরচ ২৯ হাজার ডলারের বেশি। জেনেটিক পরীক্ষা, ভ্রূণ সংরক্ষণ, গর্ভকালীন চিকিৎসা ও সন্তান জন্মের খরচ ধরলে তা ৫৪ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, ফ্লোরিডার দম্পতি এমিলি ও জাস্টিন সলোমনকে যুক্তরাষ্ট্রে এক দফা চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার ডলার খরচের হিসাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিমায় এই চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
তারা গ্রিসের এথেন্সের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। ওষুধ, নিষেক, ভ্রূণ সংরক্ষণ ও ভ্রূণ স্থানান্তরসহ পুরো চিকিৎসায় তাদের খরচ হয় প্রায় ১২ হাজার ডলার। এর বাইরে ছিল যাতায়াত ও থাকার খরচ।
সলোমন দম্পতিকে চিকিৎসার জন্য দুইবার গ্রিস যেতে হয়। প্রথম সফরে ডিম্বাণু তৈরির জন্য হরমোন প্রয়োগ ও ডিম্বাণু সংগ্রহের চিকিৎসা নেন এমিলি।
চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপের মধ্যবর্তী সময়ে তারা গ্রিসের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেও দেখেন। এমনকি মিলোস দ্বীপেও একটি সপ্তাহান্ত কাটান।
তাদের অভিজ্ঞতা এখন অনেক মার্কিন দম্পতির নতুন প্রবণতার প্রতিচ্ছবি। চিকিৎসাই হয়ে উঠছে বিদেশ ভ্রমণের মূল কারণ, আর চিকিৎসার ফাঁকে চলছে পর্যটন।
ইউরোপিয়ান ফার্টিলিটি সোসাইটির চেয়ারম্যান জাকুব দেইয়েভস্কির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপের ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মার্কিন রোগীর সংখ্যা ৩৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
স্পেনে আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য বড় পরিসরে প্রজনন চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রিস তুলনামূলক কম খরচ ও পর্যটন সুবিধার কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চেক প্রজাতন্ত্রও আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য প্রজনন চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এ ছাড়া উত্তর সাইপ্রাস ও ডেনমার্কও ফার্টিলিটি ট্যুরিজমের পরিচিত গন্তব্য।
তবে আইভিএফ কোনো সাধারণ ভ্রমণ নয়। এটি একটি জটিল চিকিৎসাপদ্ধতি। এতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ, হরমোন প্রয়োগ, ডিম্বাণু সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিভিন্ন প্রক্রিয়া এবং ভ্রূণ স্থানান্তরের মতো ধাপ থাকে।
তাই চিকিৎসার সঙ্গে ভ্রমণ করলেও রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ও শারীরিক অবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
তবে সলোমন দম্পতির ক্ষেত্রে শেষটা ছিল সুখের। এক দফা আইভিএফ চিকিৎসা এবং গ্রিসে দুইবার যাওয়ার পর তারা একটি পুত্রসন্তানের বাবা-মা হন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

