মঙ্গলবার,

০৪ অক্টোবর ২০২২,

১৯ আশ্বিন ১৪২৯

মঙ্গলবার,

০৪ অক্টোবর ২০২২,

১৯ আশ্বিন ১৪২৯

Radio Today News

পি কে হালদারসহ ৬ অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৬:০৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

পি কে হালদারসহ ৬ অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ

পি কে হালদারসহ ৬ অভিযুক্তকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতার আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ৪২ দিনের বিচার বিভাগীয় জেল হেফাজত শেষে আদালত নেয়া হলে এই আদেশ দেয়া হয় ।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় আদালতের বিশেষ সিবিআই কোর্টে তোলা হয় অভিযুক্তদের। এরপর অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারী সংস্থার আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন-উত্তর চলে।

আদালতে এদিন তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সাড়ে চার হাজার পৃষ্ঠার তদন্ত সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণ তুলে দেয়া হয়। ‌অভিযুক্ত ছয়জনকেও দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র।

অভিযোগের নথি্র সত্যতা যাচাই করে ১৭ নভেম্বর জানানো হবে বলেও জানিয়েছে আদালত। গত ১১ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট- ইডি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পি কে হালদার নামে-বেনামে বিভিন্ন কোম্পানির নামে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বের করে নেন। পরবর্তী সময়ে এসব টাকা ফেরত না আসায় ওই চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। 

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা বের করার আগে শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন পি কে হালদার। এ আর্থিক কেলেঙ্কারি জানাজানি হয় ২০২০ সালের শুরুর দিকে। এর আগেই ২০১৯ সালে দেশ ছাড়েন তিনি। 

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ পরিচালক সালাউদ্দিন। এরপর তদন্ত করে দুদক পিকে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, পি কে হালদার নামে-বেনামে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬ হাজার ৭৯০ শতাংশ জমি কিনেছেন। এ সম্পদের বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৩৯১ কোটি ৭৫ লাখ ৮১ হাজার ১২ টাকা। বর্তমানে এর বাজার মূল্য ৯৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিজের নামে জমি কিনেছেন ৪ হাজার ১৭৪ শতাংশ। এর দাম দলিলে দেখানো হয়েছে ৬৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার ৯৩০ টাকা। অথচ এ সম্পদের বর্তমান মূল্য ২২৮ কোটি টাকা। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডিতে পি কে হালদারের নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। 

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পি কে হালদার তার নিকটাত্মীয় পূর্ণিমা রানী হালদারের নামে উত্তরায় একটি ভবন করেছেন। যার দাম ১২ কোটি টাকা। পূর্ণিমার ভাই উত্তম কুমার মিস্ত্রির নামে তেজগাঁও, তেজতুরী বাজার ও গ্রিন রোডে ১০৯ শতাংশ জমি কেনেন। যার বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা। নিজের কাগুজে কোম্পানি ক্লিউইস্টোন ফুডসের নামে কক্সবাজারে ২ একর জমির ওপর নির্মাণ করেন আটতলা হোটেল (র‌্যাডিসন নামে পরিচিত)। যার আর্থিক মূল্য এখন ২৪০ কোটি টাকা। এছাড়া পি কে হালদারের খালাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী ও অনঙ্গ মোহন রায়ের নামে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৪০৪ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি, এর বর্তমান দাম ১৬৭ কোটি টাকা। 

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও কানাডিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যের বরাত দিয়ে দুদক প্রতিবেদনে বলেছে, পি কে হালদার ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভাই প্রীতিশ হালদারের কাছে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৬৪ কানাডীয় ডলার পাচার করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮০ কোটি টাকারও বেশি।

মুনিয়া

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের