
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সাতটি সংস্কার কমিশনের মোট ১২১টি সুপারিশের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং আরও ৮৫টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাকি ২০টি প্রস্তাবের মধ্যে ১০টি নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে, সেগুলো আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে। আজ ছিল উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠক। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ হ্রাস বিষয়ক বৈঠকে কার্যকর ভূমিকা রাখায় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টাকে জুলাই মাসে অভ্যুত্থান-পরবর্তী কর্মসূচিগুলো সুচারুরূপে বাস্তবায়নের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।
প্রেস সচিব বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় খাদ্য মজুদ ছিল ১৮ লাখ টন, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ টনে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়। এছাড়া সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, আমরা চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে নিজে উপস্থিত থেকে তার বিচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বৈদেশিক উপদেষ্টা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বিবিসি ও আলজাজিরার রিপোর্টে শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের গুলি করার নির্দেশনার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তার বিচার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই হবে।
প্রেস সচিব জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বর্তমান সরকার মোট ৩১৫টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে ২৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার প্রায় ৭৮.৪১ শতাংশ, যা স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে দাবি করেন তিনি।
‘এটি একটি রেকর্ড—পূর্ববর্তী কোনো সরকার এতো অল্প সময়ে এতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি,’—উল্লেখ করেন প্রেস সচিব।
সংস্কার, নির্বাচন এবং বিচার—এই তিনটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম