দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে নিজের সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার হিসাব প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেয়ার সময় যে সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন, দায়িত্ব ছাড়ার দিনেও তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি, কোনো সম্পদ বাড়েনি।
আজ (মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি তার সম্পদ ও আয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঢাকার শাহীনবাগে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় আরও একটি ফ্ল্যাট আছে। এছাড়া, ময়মনসিংহে তার নামে একটি এবং তার স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। গ্রামের বাড়ি মাগুরায় তার মালিকানায় রয়েছে ৪০ শতাংশ কৃষিজমি।
তিনি বলেন, ‘আজ দায়িত্ব ছাড়ার সময়ও আমার সম্পত্তির অবস্থান একই আছে। আমি তিনটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার স্ত্রী একটি ফ্ল্যাটের মালিক, এবং কৃষিজমির মালিকানাতেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তার নামে একটি মাত্র ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। দায়িত্ব নেয়ার সময় ওই হিসাবে জমা ছিলো ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বর্তমানে সেই হিসাবের স্থিতি ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।’
এই বাড়তি ৯ লাখ টাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘এর মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এসেছে তার শ্যালকের কাছ থেকে, যিনি আগে তার কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়েছেন। এছাড়া তার বড় ভাই ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা রমজান মাসে দরিদ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দেয়া হয়েছিল।’
এই অর্থের সব উৎস স্পষ্ট এবং যাচাইযোগ্য জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে কেউ অনুসন্ধান করতে চাইলে আমি স্বাগত জানাই।’
শেষে তিনি রসিকতার ছলে বলেন, ‘তার সেই “নকল বারবারি মাফলার”-টিও এখনও তার কাছেই আছে।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

