অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৭ জন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের ৩০ জুন ২০২৪ এবং ৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের এই তুলনামূলক বিবরণী তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক বছরে প্রধান উপদেষ্টাসহ অধিকাংশ উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে। তবে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের মোট সম্পদের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
হিসাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ২০২৪ সালের ৩০ জুনে মোট সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তার সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, আমানতের সুদ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের সম্পদও এই সময়ে এক কোটি ১১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ এক বছরে ১৮ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা বেড়েছে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সম্পদ চার কোটি ১১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে চার কোটি ৯০ লাখ টাকা হয়েছে। পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও তার স্ত্রীর সম্মিলিত সম্পদও প্রায় ৫৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্যবসায়িক পটভূমি থাকা বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদ সবচেয়ে বেশি। তার সম্পদ ২৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২৬ কোটি দুই লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদ ১২ কোটি ৭২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হয়েছে। তার সম্পদের একটি বড়ো অংশ বিদেশে এবং জাতিসংঘে কর্মরত থাকার সময় কেনা ফ্ল্যাট হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ছাত্র প্রতিনিধি থেকে আসা দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মো. নাহিদ ইসলামের সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম। গত এক বছরে তাদের উভয়েরই সম্পদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে বেড়েছে। বর্তমানে আসিফ মাহমুদের ৪৬ লাখ ২০ হাজার এবং নাহিদ ইসলামের ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
ব্যতিক্রম হিসেবে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সম্পদ আগের বছরের তুলনায় ২৩ লাখ চার হাজার টাকা কমেছে। ২০২৪ সালে তার সম্পদ পাঁচ কোটি আট লাখ টাকা থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে চার কোটি ৮৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান তার ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব একত্রে দাখিল করেছেন, যার পরিমাণ দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই উপদেষ্টাদের এই সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

