দেশে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবনির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে বিষয়টি জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।
নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কথা উল্লেখ ছিল। পর্যায়ক্রমে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নগদ অর্থ দেওয়া হবে। কার্ডপ্রাপ্তিতে হতদরিদ্র ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ করা হবে। আসন্ন ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রথমে হতদরিদ্র, পরে দরিদ্র পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও কাঠামো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেও প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—উপযুক্ত নকশা ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন, আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় পাইলট চালু, নারীদের বিদ্যমান কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়ে ডিজিটাল এমআইএস প্রস্তাব করা এবং আগামী মঙ্গলবারের (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি চলমান ভাতা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

