বিএনপি ক্ষমতায় আসায় ১৭ বছর পর জুতা পরলেন সুরুজ পাঠান

বুধবার,

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বুধবার,

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৬ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

বিএনপি ক্ষমতায় আসায় ১৭ বছর পর জুতা পরলেন সুরুজ পাঠান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:১৩, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
বিএনপি ক্ষমতায় আসায় ১৭ বছর পর জুতা পরলেন সুরুজ পাঠান

দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে পায়ে জুতা পরলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বিএনপি নেতা সুরুজ পাঠান। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন থেকে নেওয়া এক কঠিন প্রতিজ্ঞা আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পূরণ হলো তার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তাঁকে নতুন জুতা পরিয়ে দেওয়া হয়।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বিএনপিকে নিয়ে তৎকালীন প্রতিপক্ষের কটূক্তি ও অবমাননাকর মন্তব্যে চরম মর্মাহত হয়েছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সুরুজ পাঠান। ওই দিন কেন্দ্র থেকে একপ্রকার বাধ্য হয়েই জুতা ফেলে তাঁকে চলে আসতে হয়েছিল। এরপরই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত তিনি আর পায়ে জুতা স্পর্শ করবেন না।

বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রোদ-বৃষ্টি কিংবা শীতের তীব্রতা-সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন সুরুজ পাঠান। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিবেশীদের হাসি-ঠাট্টা কিংবা পরিবারের বারবার অনুরোধের মুখেও তিনি নিজের প্রতিজ্ঞা থেকে বিচ্যুত হননি।

এদিন বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সুরুজ পাঠানের বাড়িতে যান। সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁকে নতুন জুতা পরিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় সুরুজ পাঠান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘২০০৮ সালে কেন্দ্র থেকে আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিনই জুতা ফেলে এসেছিলাম এবং ঠিক করেছিলাম দল না জেতা পর্যন্ত আর জুতা পরব না। আজ বিএনপি ভোটে জিতেছে, আমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছে।’ তবে তাঁর মনের শেষ ইচ্ছা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জুতা উপহার পাওয়া।

নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সুরুজ পাঠান আমাদের দলের প্রতি চরম ত্যাগ ও একনিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। ২০০৮ সালে তাকে যেভাবে নির্যাতন ও অপমান করা হয়েছিল, তার প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এই কৃচ্ছ্রসাধন করেছিলেন। আজ আমরা আনন্দিত যে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, সুরুজ পাঠানের মতো দেশের অগণিত নেতাকর্মী বিগত বছরগুলোতে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, যাঁদের আত্মত্যাগ আজ দলকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের