হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ, ৫৮ ঘণ্টা পর মিললো যুবকের মরদেহ

মঙ্গলবার,

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৫ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ, ৫৮ ঘণ্টা পর মিললো যুবকের মরদেহ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:০২, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ, ৫৮ ঘণ্টা পর মিললো যুবকের মরদেহ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রওশ থেকে ফেরার পথে ‘প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ’ দেওয়া যুবক মো. সাব্বিরের মরদেহ প্রায় ৫৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামিপাড়া ছায়ারচর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে মদুনাঘাট নৌপুলিশ।

নিহত সাব্বির রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত প্রায় ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় একটি ওরশ থেকে নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সাব্বির ও তার কয়েকজন বন্ধু। মেলায় দুই দল যুবকের মধ্যে কথা–কাটাকাটির জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে মধ্যরাতে নদীর মাঝখানে নৌকায় উঠে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তখন প্রাণ বাচাঁতে তিনজন নদীতে ঝাঁপ দেন। তাদের মধ্যে দু’জন সাঁতরে রাউজান অংশে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সাব্বির নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা যুবকেরা দাবি বলেন, হামলার সময় সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

সাব্বিরের সঙ্গী মোহাম্মদ মারুফ বলেন, ‘কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাব্বিরকে মাথায় আঘাত করলে আমরা নদীতে ঝাঁপ দেই। আমরা দু’জন কোনোমতে বাড়ি পৌঁছাই, কিন্তু সাব্বিরকে আর খুঁজে পাইনি, সাব্বির মৃদু স্বরে বলে আমি আর পারছি না তীরে এসে তাকে আর দেখতে পাইনি।’

নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও স্থানীয়রা হালদা নদীতে খোঁজাখুঁজি চালান। অবশেষে ৫৮ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে ছায়ারচরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সকাল ৯টায় নৌপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এদিকে মরদেহ শনাক্তের পর পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ ও বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

মদুনা ঘাট নৌ পুলিশের এস আই মো.  হাবিবুর রহমান জানান, সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান জানান ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার জন্য রওয়ানা হয়েছেন। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের