সৌদিতে প্রথম রমজান কবে, জানালেন জ্যোতির্বিদরা

সোমবার,

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সোমবার,

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৪ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

সৌদিতে প্রথম রমজান কবে, জানালেন জ্যোতির্বিদরা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:০৯, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
সৌদিতে প্রথম রমজান কবে, জানালেন জ্যোতির্বিদরা

সৌদি আরবের দাপ্তরিক হিজরি বর্ষপঞ্জি উম্মা আল-কুয়ার কেলেন্ডারের তথ্য অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা। 

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে শুরু থেকেই রোজার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিতর্কের মূল কারণ কী?
ইসলাম ধর্মে চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করা হয়। বছরে ১২টি মাস থাকে এবং প্রতিটি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়। নতুন মাস শুরুর বিষয়টি নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। রমজান ও ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

বিশ্বের কিছু দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে কিছু দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল। যেমন যুক্তরাজ্যে কোনো কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় অনেক মুসল্লি সৌদির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন, যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন আলেম সতর্কতা জানিয়ে থাকেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিযোগ
গত কয়েক বছর ধরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, চাঁদ দেখা সম্ভব না হলেও তারা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট আই গত বছরের ২৬ মার্চ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, চাঁদ দেখার বিষয়ে সৌদির তথ্যে অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সে বছর ২০ এপ্রিল সৌদি আরব ঈদের চাঁদ অনুসন্ধান করছিল। কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন বলেছিলেন, আরব উপদ্বীপে সেদিন কোনোভাবেই চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। 

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেউ চাঁদ দেখলে তার ছবি প্রকাশ করা হোক। কিন্তু একই দিন সৌদি কর্তৃপক্ষ ২১ এপ্রিল ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেয়।

পরবর্তীকালে সৌদির কাছে চাঁদ দেখার প্রমাণ চাওয়া হলেও তারা কোনো স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেনি। তবে সৌদি জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ‘অনুজ্জ্বল চাঁদের’ ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন সেটিই প্রমাণ।

২০২৪ সালেও বিতর্ক
২০২৪ সালের ৬ জুনও সৌদি আরব ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখার দাবি করে। কিন্তু জ্যোতির্বিদরা জানান, বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী সেদিন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ ছিল না। একইভাবে গত বছর ঈদুল ফিতরের সময়ও অনুরূপ বিতর্ক তৈরি হয়।

ইসলামিক বর্ষপঞ্জি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সংস্থা নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, বহু ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখা অসম্ভব হলেও সৌদি চাঁদ দেখার তথ্য প্রকাশ করে থাকে। তার দাবি, এসব ঘোষণা প্রায়ই উম্মা আল-কুয়ার কেলেন্ডারের সঙ্গে মিল রেখে দেওয়া হয়, যদিও সেটি সরাসরি চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তৈরি নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি চাঁদ দেখার দাবি করেন, কিন্তু অন্যদের কাছ থেকে একই ধরনের সাক্ষ্য মেলে না।

অন্য দেশগুলোর অবস্থান

তবে সৌদি আরব একমাত্র দেশ নয়, যারা হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে তারিখ নির্ধারণ করে। তুরস্কের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে ঈদের দিন ঠিক করে। পার্থক্য হলো, তারা এ বিষয়টি প্রকাশ্যেই জানায় এবং চাঁদ প্রত্যক্ষভাবে দেখার দাবি করে না— এমনটাই জানিয়েছেন ইমাদ আহমেদ।

সব মিলিয়ে চাঁদ দেখা বনাম জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব— এই দুই পদ্ধতির পার্থক্য থেকেই মূলত প্রতিবছর রমজান ও ঈদের তারিখ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের