মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে হরমুজে ইরানের নৌ-মহড়া

মঙ্গলবার,

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৪ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৪ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে হরমুজে ইরানের নৌ-মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে হরমুজে ইরানের নৌ-মহড়া

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জেনেভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসার ঠিক একদিন আগে হরমুজ প্রণালীতে বিশাল নৌ-মহড়া শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার শুরু হওয়া এই সামরিক মহড়াটি মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহড়াটি মূলত ‘সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তা হুমকি’ মোকাবিলায় নৌ-ইউনিটগুলোর ‘অপারেশনাল প্রস্তুতি’ যাচাই করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আইআরজিসির চিফ কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ব্যক্তিগতভাবে এই মহড়া তদারকি করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন করা হয়। ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। গত মাসে ইরানে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এই হুঁশিয়ারি দেয়। এমনকি আলোচনার আগে চাপ সৃষ্টি করতে গত সপ্তাহে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী  স্ট্রাইক গ্রুপ এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সমর্থন বন্ধে রাজি না হয়, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প সব সময় খোলা থাকবে।

এই সামরিক উত্তেজনার মাঝেই ওমানের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার অংশ নিয়েছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তিনি একটি ‘ন্যায়সঙ্গত চুক্তিতে’ পৌঁছাতে সুনির্দিষ্ট ধারণা নিয়ে জেনেভা এসেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হুমকির মুখে নতি স্বীকার করা হবে না। ইরান চায় আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকুক।

গত বছরের জুনে ইসরাইলের সাথে যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকেই তেহরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে সেই স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিচ্ছে না। সোমবার জেনেভায় আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আরাগছি, যেখানে কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
 
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান নিজে থেকে যুদ্ধ শুরু করবে না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে সেই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের