২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমের জন্য আজ রোববার থেকে ভিসা দেওয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত কার্যক্রম সূচির অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, হজযাত্রীদের আগমনের কয়েক মাস আগে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবং সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বছরের হজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক আগেই– ২০২৫ সালের ৮ জুন থেকে। তারিখটি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪৪৬ সালের ১২ জিলহজ। ওই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনা নথি পাঠায় সৌদি মন্ত্রণালয়। এরপর সফর মাসের শুরুতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর ক্যাম্প-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, যাতে পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসন ও প্রাথমিক সেবাসংক্রান্ত চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৪৪৭ হিজরির ১ রবিউল আউয়াল। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবরকে (রবিউল আউয়াল) নির্ধারণ করা হয় প্রস্তুতিমূলক সভা শেষ করা, চূড়ান্ত কার্যক্রম তথ্য সম্পন্ন করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরুর শেষ সময়সীমা হিসেবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি হজ প্রদর্শনীও আয়োজন করা হবে।
২০২৬ সালের শুরুতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। গেল জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবাসংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু হলো। মার্চ মাসে ভিসা চূড়ান্তকরণ ও হজযাত্রীদের আগমন-পূর্ব প্রস্তুতি তথ্য জমা দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম দফার হজযাত্রীরা আগামী ১৮ এপ্রিল (১ জিলকদ) সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। এর মাধ্যমে হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম পর্ব শুরু হবে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে, যাতে হজযাত্রীদের আগমনের আগেই অবকাঠামো ও সব সেবা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও জানানো হয়েছে। বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোর সব সেবার চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মক্কার আবাসন চুক্তিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকেই সরাসরি প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি হজ কার্যক্রম অফিস তাদের প্রাথমিক চুক্তিগত শর্ত পূরণ করেছে। সূত্র: গালফ নিউজ।
মন্ত্রণালয় জানায়, আর্থিক ও চুক্তিগত কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ‘নুসুক মাসার’ এবং ইলেকট্রনিক ওয়ালেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং বুকিং-সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সেবা প্রদানকারীদের নির্ধারিত সময়সূচি পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

