সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ দুই কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি সভায় উপস্থাপন করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য মোট পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ২৩-২৪ আগস্ট ৪০তম, ২৬-২৭ আগস্ট ৪১তম, ২৯-৩০ আগস্ট ৪৩তম, ১-২ সেপ্টেম্বর ৪৪তম এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বর ৪৫তম কার্গো সরবরাহের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দুটি কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রথম কার্গোটি ২৩-২৪ আগস্ট সরবরাহ করা হবে। এ কার্গোর প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম পড়বে ২১ দশমিক ৮৭৮ মার্কিন ডলার। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অন্য কার্গোটি সরবরাহ করা হবে ৪-৫ সেপ্টেম্বর। এ কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৭৮ মার্কিন ডলার। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
দুই কার্গো মিলিয়ে এলএনজি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এ এলএনজি কেনা হচ্ছে। ক্রয়প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর), ২০০৮ এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে স্পট মার্কেটসহ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করছে সরকার। আমদানি করা এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণের পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় সরবরাহ করা হয়। শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এ এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

