পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিবদের স্বাক্ষর শেষ হলেও আটকে আছে গেজেট, কেন?

বুধবার,

১৯ আগস্ট ২০২৬,

৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বুধবার,

১৯ আগস্ট ২০২৬,

৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিবদের স্বাক্ষর শেষ হলেও আটকে আছে গেজেট, কেন?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৯:৫৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬

Google News
পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিবদের স্বাক্ষর শেষ হলেও আটকে আছে গেজেট, কেন?

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিব কমিটির সদস্যরা স্বাক্ষর করলেও এর গেজেট প্রকাশ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতনকাঠামো কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি, কারিগরি জটিলতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়ায় চলতি আগস্ট মাসেও গেজেট জারি হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম পে স্কেলের অগ্রগতি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন এই স্কেল বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বাবদ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকরের কথা জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদন ও সচিবদের স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও মূলত ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কারিগরি দিকটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটি এবং আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। প্রথম বছর শুধু বর্ধিত মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছর থেকে বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গিক ভাতা চালুর যে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আংশিকভাবে কার্যকর করতে বিদ্যমান সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এই কারিগরি জটিলতার কারণেই গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।

এ ছাড়া নতুন কাঠামোতে যেন কোনো পেশাজীবী বা চাকরিজীবী শ্রেণি বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখছে সরকার। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, তা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি। প্রথমে দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মূল বেতন ও ২০২৭ সালের জুলাইয়ে ভাতা কার্যকর করাসহ তিন ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। গত জানুয়ারিতে জমা দেওয়া ওই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়। তবে পর্যালোচনা কমিটির আলোচনায় সর্বনিম্ন বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার একটি প্রস্তাবও উঠে এসেছিল। সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় চূড়ান্ত গেজেটে এই অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সার্বিক পরিস্থিতিতে গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো পরিষ্কার নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, কারিগরি দিকগুলোর দ্রুত সমাধান হলে চলতি আগস্টেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভিন্ন একটি সূত্রের ধারণা, সফটওয়্যার হালনাগাদ ও আনুষঙ্গিক সব প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবরের আগে এই গেজেট জারি করা সরকারের জন্য কঠিন হতে পারে। ফলে নতুন পে স্কেলের সুফল পেতে সরকারি কর্মচারীদের অপেক্ষার প্রহর আরও কিছুটা দীর্ঘ হলো।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের