শনিবার,

১৭ অক্টোবর ২০২৬,

১ কার্তিক ১৪৩৩

শনিবার,

১৭ অক্টোবর ২০২৬,

১ কার্তিক ১৪৩৩

Radio Today News

চীনে প্রত্নতত্ত্বের শতবর্ষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রত্যয় পঞ্চম কংগ্রেসে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:১০, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:১১, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

Google News
চীনে প্রত্নতত্ত্বের শতবর্ষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রত্যয় পঞ্চম কংগ্রেসে

চীনের প্রত্নতত্ত্বের শতবর্ষের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অতীতের খননকাজের অর্জন ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ গবেষণার পথ দেখাবে। নতুন লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ শাস্ত্রের অগ্রযাত্রায় এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। বৃহস্পতিবার শানসি প্রদেশের ইয়ুনছেংয়ে শুরু হওয়া চীনা প্রত্নতত্ত্বের পঞ্চম কংগ্রেসে এমনটাই বলেন গবেষকরা।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ’। চীনে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার অন্যতম উচ্চপর্যায়ের একাডেমিক সম্মেলন এটি।
চীনা প্রত্নতত্ত্ব সোসাইটির চেয়ারম্যান ছেন সিংছান বলেন, ‘এবারের কংগ্রেসের প্রতিপাদ্য অতীতে চোখ রেখে প্রবীণ প্রত্নতত্ত্ববিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং বর্তমান গবেষণার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ শাস্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করে তোলা। 

ঠিক ১০০ বছর আগে ১৯২৬ সালের অক্টোবরে প্রত্নতত্ত্ববিদ লি চি (১৮৯৬-১৯৭৯) ইয়ুনছেংয়ের সিয়াসিয়ান কাউন্টিতে অবস্থিত সিইয়িন প্রত্নস্থলে প্রথমবারের মতো কোদাল চালিয়ে খননকাজ শুরু করেন। তাকে চীনা প্রত্নতত্ত্বের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিওলিথিক যুগের এ প্রত্নস্থলটির বয়স প্রায় ৫ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার বছর। এ কারণেই চীনের প্রত্নতত্ত্বচর্চা শুরুর স্থানটির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আয়োজনের স্থান হিসেবে ইয়ুনছেং-কে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মাটির সেই প্রথম কোপ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। চীনা কোনো গবেষকের স্বাধীন নেতৃত্বে পরিচালিত সেটিই ছিল প্রথম আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ। ১৯২০-এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা শুরু হওয়া আরও কয়েকটি স্থানের সঙ্গে সিইয়িন প্রত্নস্থলকেও আধুনিক চীনা প্রত্নতত্ত্বের সূচনাপর্বের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ইয়ুনছেং জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি চীনা সভ্যতার উৎস অনুসন্ধানে জাতীয় গবেষণা প্রকল্প এবং এ সভ্যতার ইতিহাসবিষয়ক গবেষণা আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। 

প্রত্নতত্ত্ব সমিতির চেয়ারম্যান ছেন বলেন, “আজ আমরা কংগ্রেস আয়োজনের জন্য ইয়ুনছেংয়ে সমবেত হয়েছি। প্রেসিডেন্ট সি’র গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার চেতনাকে একাডেমিক গবেষণার বাস্তব চর্চায় রূপ দেওয়ার এটি একটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ।”

শানসি প্রাদেশিক সাংস্কৃতিক নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক চেন ইয়ুয়ান মূল প্রবন্ধে বলেন, ‘১৯২৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সিইয়িন প্রত্নস্থল নিয়ে শতবর্ষের গবেষণা যেন একটি আয়না। এতে চীনের প্রত্নতত্ত্বের বিকাশ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।‘

চীনা সামাজিক বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রত্নতাত্ত্বিক ইনস্টিটিউটের এর পরিচালক শি চিনসোং বলেন, ‘চীনা প্রত্নতত্ত্বের শতবর্ষের যাত্রা এ শাস্ত্রের ভবিষ্যৎ, এমনকি মানবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তাভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।‘

এ বছরের কংগ্রেসে ২৮টি পেশা-ভিত্তিক কমিটি অংশ নিচ্ছে। এসব কমিটি ২৮টি সমান্তরাল অধিবেশনে ৫৭০টিরও বেশি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবে। 

অধিবেশনগুলোতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুগ ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার নানা ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পানির নিচে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, প্রাণী প্রত্নতত্ত্ব— অর্থাৎ প্রত্নস্থল থেকে পাওয়া প্রাণীর অবশেষ নিয়ে গবেষণা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের বয়স নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক কৌশলের ব্যবহারসহ প্রত্নপরিমিতিবিদ্যা।

একাডেমিক অধিবেশনের বাইরেও সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্নতত্ত্বের জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ইয়ুনছেং ও শানসির অন্যান্য শহরে ২২টি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বক্তৃতার আয়োজন করা হচ্ছে।

 
 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের