একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়: তারেক রহমান

সোমবার,

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২০ মাঘ ১৪৩২

সোমবার,

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২০ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়: তারেক রহমান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন তারা কোনওভাবেই নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। তিনি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা এদেশের মানুষের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। নারীরা সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকেন। ৫০ লাখ নারী গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করেন। ওই নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মানিত করেছেন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করলে আমাদের প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এটি করতে হবে। শুধু এক ধরনের মানুষ নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা যায় না। দেশের ২০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ। তাদের পেছনে রেখে যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এজন্যই খালেদা জিয়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।’

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-কে স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। দলটির একজন নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মান করেছেন। অথচ আমাদের মহানবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা ছিলেন একজন কর্মমুখী নারী এবং সফল ব্যবসায়ী।’

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যে দলের নেতা নারীদের এভাবে কথা বলতে পারে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায় তাহলে নারীদের কীভাবে অপমান অপদস্ত করবে তা ভাবা যাইয় না। এর উদাহরণ ১৯৭১ সালে দেখা গিয়েছিল। লাখ লাখ মা বোনকে এই দলের পূর্বসুরীরা অপদস্ত করেছিল। যাদের কাছে মানুষের আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের কাছে কখনও দেশ নিরাপদ হতে পারে না।’

ধর্মের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটি দল নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ধর্মকে ব্যবহার করছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যারা নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়, তারা নির্বাচিত হলে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কী আচরণ করবে—সে প্রশ্ন আজ জনগণের সামনে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারে নারীরা আজ আয়ের হাল ধরেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ একটি দল তাদের অপমান করছে।’

নারীদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মা-বোনদের বলবো; যারা নারীদের অপমান করে, তাদের কীভাবে জবাব দেবেন তা ভেবে দেখুন। যে দলে নিজেরাই নারী সদস্য রয়েছে, সেই দলই যদি নারীদের অবমাননা করে, তাহলে তাদের প্রকৃত পরিচয় কী—সেই প্রশ্ন জনগণকেই করতে হবে।’

সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে ওই রাজনৈতিক দল দাবি করছে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ধরনের হ্যাকিং হয়নি।’ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণী ও মায়ের কাছে আমরা ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ পৌঁছে দেব। এর মাধ্যমে নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন, কাউকে তাদের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। খালেদা জিয়ার সরকার নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন যাতে এই বিশাল জনশক্তি আলোকিত হতে পারে। আমরা সেই ধারা বজায় রেখে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’

বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত পনেরো-ষোলো বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোটের অধিকার পায়নি। মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেনি। কেউ কথা বলতে চাইলে তাকে রাতের আঁধারে গুম বা খুন করা হয়েছে। বহু নেতাকর্মী গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।’

খুলনাকে মৃত শিল্প নগরী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প নগরীকে পুনরায় জীবিত করা হবে। এখানে তরুণদের জন্য আইটি পার্ক এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’ এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার কৃষক ভাইদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণাও দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা আপনাদের অপমান করে, তাদের জবাব দেয়ার সময় এসেছে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের অধিকার ফিরে পাবেন ইনশা আল্লাহ।’

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের