সর্বকনিষ্ঠ নারী সংসদ সদস্য কে এই পুতুল?

শনিবার,

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২ ফাল্গুন ১৪৩২

শনিবার,

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

সর্বকনিষ্ঠ নারী সংসদ সদস্য কে এই পুতুল?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:২১, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
সর্বকনিষ্ঠ নারী সংসদ সদস্য কে এই পুতুল?

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। তিনি উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলার ৭২টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১২ হাজার ৭৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ৪১ বছর বয়সি ফারজানা শারমিন পুতুল। সদস্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর বিপরীতে এই জয় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনী হলফনামা ও সার্টিফিকেট অনুয়ায়ী, ১৯৮৪ সালের ২ নভেম্বর লালপুরের গৌরীপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বর্তমান বয়স ৪১ বছর ৩ মাস ১১ দিন।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এক লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ফারজানা শারমিন পুতুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন (দাঁড়িপাল্লা) ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট আর স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু ‘কলস’ প্রতীকে ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। অর্থাৎ, পুতুল ১২ হাজার ৭৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। 

তবে পুতুলের এই জয় সহজ ছিল না। নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ঘিরে পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হয়; তার বড় ভাই ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনও মনোনয়ন চেয়ে সরব ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বড় ভাইয়ের সমর্থনে অনেকটা স্বস্তি মিললেও ফারজানা শারমিনের প্রতিপক্ষও ছিলেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। একজন দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মওলানা আবুল কালাম আজাদ অন্যজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাইফুল ইসলাম টিপু। যিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নারী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যারিস্টার পুতুল সাইবার বুলিংয়ের শিকারও হয়েছেন। এমনকি দলের ভেতরের কিছু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে প্রতিটি এলাকায় ধানের শীষের ভোট প্রার্থনা, গণসংযোগ করে গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের রাজনৈতিক দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিছেন তিনি। তার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকে শক্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের মন জয় করে পার হন নির্বাচনী বৈতরণি। দুই হেভিওয়েটকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী পুতুল।

ফারজানা শারমিন পুতুল পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী, মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য ও নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কে এই পুতুল?

তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। ফজলুর রহমান পটল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন এবং এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ তালহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। পরে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন পুতুল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুতুলের মা অধ্যক্ষ (অব.) কামরুনাহার শিরিন দলীয় মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় পটল পরিবারের কেউ প্রার্থী হননি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবার সেই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার পুতুল।

নির্বাচনে বিজয়ের পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি প্রথমেই দলের চেয়ারম্যানসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমার ওপরে বিশ্বাস করে ধানের শীষ তুলে দিয়েছিলেন। প্রতিদানে এ আসনের মানুষ আমাকে বিজয়ী করে তাকে সম্মানিত করেছেন। জয়ের ব্যাপারে আমার শতভাগ বিশ্বাস ছিল। এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার জন্য লালপুর-বাগাতিপাড়ার আপামর জনগণ ও যেসব নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের