‘মদিনা মুনাওয়ারা’ বা আলোকিত নগরী।সংক্ষেপে যাকে বলা হয় মদিনা। নবীজি (সা.) মদিনায় যে প্রধান মসজিদটি নির্মাণ করেন, এর নাম ‘মসজিদে নববি’, যা মদিনা শরিফ নামেই পরিচিত। আর এখানেই নবীজীর রওজা মোবারক অবস্থিত। মসজিদে নববিতে রাসূলে করিম (সা.) যে স্থানে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করতেন, সে মিহরাবকে মিহরাবুন নবী বলা হয়।
হজ ও ওমরা পালনকারীদের মদিনা আসার আর একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- নবী করিম (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা এবং রওজায় সালাম দেয়া। মদিনায় হাজিদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, মসজিদে নববিতে নবীজির রওজা জিয়ারত করা এবং সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নাজাম আদায় করা। মসজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজের সওয়াব পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের সমান।
এছাড়া মসজিদে নববিতে বিরতিহীনভাবে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের আলাদা ফজিলত রয়েছে।এই মসজিদে বিরতীহীনভাবে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ার ফজিলত সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মসজিদে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে আর কোনো নামাজ কাজা করেনি,সে নিফাক (মুনাফেকি) আর দোজখের আজাব থেকে নাজাত পাবে।’ (মুসনাদে আহমদ, আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)
হাদিস ও ফিকাহের গ্রন্থগুলোতে এ বিষয়ে প্রচুর নির্দেশনা রয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,যে হজ করলো কিন্তু আমার রওজা জিয়ারত করলো না; সে আমার প্রতি জুলুম করলো।-তিরমিজি। ইসলামি স্কলারদের মতে, হাজিদের জন্য রওজা শরিফ জিয়ারত করা সুন্নত। অনেকে ওয়াজিবও বলে থাকেন।আবার অনেক ইসলামী স্কলাররা এটাকে ইবাদতের অংশবিশেষ মনে করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতের ফজিলত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর তার রওজা মোবারক জিয়ারতে করলো, সে যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জীবদ্দশায় দশন করলো।
মসজিদে নববিতে প্রবেশ করার জন্য অনেকগুলো দরজা রয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিম পাশে রাসূল(স:) এর রওজা জিয়ারতের জন্য যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, ওই দরজাকে ‘বাবুস সালাম’ বলা হয়। বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করে রাসূলের রওজায় সালাম শেষে ‘বাবুল বাকি’ দিয়ে বের হতে হয়। মসজিদে নববির পূর্ব পাশের বহির্গমন দরজাকে বাবে জিবরাইল বলা হয়। এখানে হজরত জিবরাইল (আ.) ওহি নিয়ে এসে প্রায়ই অপেক্ষা করতেন। তাই এই নাম বাবে জিবরাইল।
এছাড়াও হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলে মসজিদে নববির আয়তন ছিলো ২৫০০ বর্গ মিটারের মতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজনের তাগিদে মসজিদে নববির নানা সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে। বর্তমানে এর আয়তন প্রায় ২,৩৫,০০০ বর্গমিটারের মতো। এখানে বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে চার লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়াও মসজিদে নববিতে রয়েছে মহিলাদের নামাজ পড়ার জন্য আলাদা স্থান। রাসূল( স:) এর রওজার পাশে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর কবর। এছাড়াও উম্মুল মুমিনিন হয়রত আয়েশা (রা.)-এর হুজরার মধ্যে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর পবিত্র রওজা মোবারক অবস্থিত।
মদিনায় নবীজির রওজা মোবারক জিয়ারত করা হাজীদের জন্য পরম সৌভাগ্যের একটি ব্যাপার। মদিনায় এসে দুনিয়ায় জীবিত থাকতেই জান্নাতের ভ্রমণের সুযোগ মেলে হাজিদের। নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফ এবং এর থেকে পশ্চিম দিকে রাসূলে করিম (সা.)-এর মিম্বর পযন্ত স্বল্প পরিসরের স্থানটুকুকে রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগিচা বলা হয়। এটিকে দুনিয়াতে একমাত্র জান্নাতের অংশ বলা হয়ে থাকে। এই স্থানে বিছানো থাকে স্বতন্ত্র রঙয়ের কার্পেট। এই স্থানটুকু সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার রওজা ও মিম্বরের মধ্যবতী স্থানে বেহেশতের একটি বাগিচা বিদ্যমান। এখানে প্রবেশকরা মানে জান্নাতে প্রবেশ করা।সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে নবীজির রওজা মোবারক জিয়ারত করার তৈফিক দান করুক।
রেডিওটুডে নিউজ//আ আ
এ এ

