তুরস্ককে ঘিরে এবার ছিল বড় স্বপ্ন। অনেকের চোখে এটি ছিল দেশটির ‘সোনালি প্রজন্ম’, যারা বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে পারে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের পর বুধবার প্যারাগুয়ের কাছেও পরাজিত হয়েছে তুরস্ক। টানা দুই ম্যাচে হারায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ইউরোপের দলটির। আরও হতাশার বিষয়, দুই ম্যাচ মিলিয়ে প্রায় ২০০ মিনিট খেলে একটি গোলও করতে পারেননি তুর্কি ফুটবলাররা।
২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসা তুরস্কের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তরুণ তারকা আর্দা গুলের। রিয়াল মাদ্রিদের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে ঘিরে ছিল বিপুল প্রত্যাশা। তবে দলীয় ব্যর্থতার সঙ্গে তিনিও নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ২১ বছর বয়সী গুলের।
আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমরা লজ্জিত, আমরা ক্ষমা চাইছি। আমরা সবাই বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোতে খেলি। তাই বিশ্বকাপে আরও ভালো করা উচিত ছিল। দুই ম্যাচে আমরা একটি গোলও করতে পারিনি। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
দলের হতাশার চিত্র তুলে ধরে গুলের আরও বলেন, “দলের সবাই কাঁদছে। আমরা সমর্থকদের খুশি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা পারিনি। এজন্য খুবই দুঃখিত। এই বিশ্বকাপ ভুলে যেতে আমি সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করব।”
তুরস্কের প্রধান কোচ ভিনসেঞ্জো মনতেল্লাও ফলাফলে হতাশ। তবে তিনি খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা ও লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। মনতেল্লার বিশ্বাস, তার দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না।
এবারের বিশ্বকাপে তুরস্কের শেষ ম্যাচ আগামী ২৬ জুন সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ইতোমধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই শেষ ম্যাচটি এখন তুরস্কের জন্য কেবল সম্মান রক্ষার লড়াই।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

