২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ২০২৬ এর বিশ্বকাপজয়ী দল স্পেন যৌথ আয়োজক দেশগুলোর পরিবর্তন চেয়েছে। স্পেনের ক্ষমতাসীন বামপন্থী জোটের একাধিক সংসদ সদস্য দাবি করেছে যৌথ আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে মরক্কোকে আয়োজনের দায়িত্ব থেকে বাদ দিতে হবে।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হিসেবে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এছাড়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের স্মরণে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনাকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর কনমেবলের সদর দপ্তর প্যারাগুয়েতে হওয়ায় দেশটিও একটি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।
তবে সম্প্রতি মরক্কোর ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্পেনের পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন জোটের তিনটি রাজনৈতিক দলের ডেপুটিরা দেশটির সরকারকে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোকে যৌথ আয়োজক দেশগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে পর্তুগালের ক্ষমতাসীন লিবরা পার্টিও। দলটি এ বিষয়ে পর্তুগাল সরকার ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছেও চিঠি দিয়েছে।
এই দাবির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি স্পেনের উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতা সীমান্তে ঘটে যাওয়া বড় অভিবাসন সংকট। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মানব পাচারকারী চক্র গুজব ছড়িয়ে দেয়, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে। সেই ভুয়া তথ্যের প্রভাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মরক্কোর নাগরিক সমুদ্রপথে সেউতা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন।
যদিও পরে অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে যান, তবু এ ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্পেনের বামপন্থী জোটের নেতাদের দাবি, একটি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার চিত্র কতটা সংকটাপন্ন হলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবন বাজি রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন—এই ঘটনাই মরক্কোর বিশ্বকাপ আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

