গাইবান্ধায় গাছ চাপা পড়ে ফিহামনি (১১) ও জান্নাতি আক্তার (২) নামের দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যায় বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্বাসের মোড় এলাকার মধু মিয়া ও মতিউর রহমানের বাড়িতে সকাল থেকেই গাছ কাটা চলছিল। বিকেলের দিকে পাশের বাড়ির ফরিদ মিয়ার এগারো বছর বয়সী মেয়ে ফিহামনি তার দুই বছর বয়সী বোন জান্নাতি আক্তারকে কোলে নিয়ে গাছ কাটা দেখতে যায়। চাগুয়ে নামের একটি গাছ কাটার সময় গাছটি ওই দুই বোনের উপড়ে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বোনের মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গাছ কাটার লোকজন ও গাছের মালিক মধু মিয়া ও মতিউর রহমান তাড়াহুড়ো করে মৃতদেহের উপড়ে পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিখোঁজ দুই মেয়ের সন্ধান করতে গিয়ে বাবা ফরিদ মিয়া রাত ৮টার দিকে গাছের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় তার দুই মেয়ের মরদেহ দেখতে পায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে গাছের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ দুটি উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের নিচ থেকে দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ, ‘তাদের মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছে। যদি হত্যাই না করে, তাহলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখবে কেন?’ তারা দুই বোন হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
নিহত দুই শিশু কন্যার বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, 'আমার দুই মেয়েকে যারা এভাবে হত্যা করে পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছিল, আমি তাদেত ফাঁসি চাই।'
মা লাইজু বেগম সন্তানের জন্য বিলাপ করছেন আর বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। চিৎকার করে বলছেন, ‘কোটে মোর সোনার ধন, কেটা মারি ফেলালো রে.... মোর কলজে দুইটেক আনি দেও। ওরা আমার মাইয়া দুইটাকে মাইরা পাতা দিয়ে ঢাকি রাখছে, ওরে আল্লারে।’
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দুই বোনের মৃত্যুর পেছনে যারা গাছ কাটছিল এবং যারা গাছের মালিক উভয়েরই দোষ আছে। কারণ, এসব বড় গাছ কাটার সময় অবশ্যই আশপাশের ঘরবাড়ি ও লোকজনকে সতর্ক করতে হয়। তারা হয়তো সেটা করেননি। ফলে একই পরিবারের দুই সন্তানের অকাল মৃত্যু হয়েছে।’
তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

