নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম, উনি লন্ডনে গেছেন, পড়াশোনা করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি হয়তো আছে। কিন্তু উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সৌজন্যতা, শিষ্টাচার বোধের জায়গা থেকেও এই কথা বলা যায় না।’
শুক্রবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত মহল্লায় নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কোনো একজন মুসলমান, যিনি আল্লাহ, রাসুল ও আখেরাতকে বিশ্বাস করেন, তিনি পরকালে বিশ্বাসী আরেকজনকে কাফের বলতে পারেন না, এটি জায়েজ নয়। তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন।’
১৯৭১ সালের প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক দল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এটি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য হতে পারে, বিশ্লেষণ হতে পারে। তবে জামায়াত কোনো হত্যা, গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫ দশক পার হলেও এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা বা জিডিও হয়নি এটাই প্রমাণ করে অভিযোগগুলো রাজনৈতিকভাবে সাজানো।’
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো বড় রাজনৈতিক নেতার যদি এই বিষয়ে উত্তর খোঁজার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাকে ১৯৭৯ সালে তার পিতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, পরবর্তীতে চারদলীয় জোট গঠন এবং দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে একত্রে আন্দোলন ও রাজনীতি করার ইতিহাসের মধ্যেই সেই জবাব খুঁজতে হবে। অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ভূমিকা রাখা একাধিক রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসানোর সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর সেখানেই নিহিত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরিরা দলীয় স্বার্থে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে রাজনীতিকে যুক্তি, নৈতিকতা ও আদর্শশূন্য করে ফেলেছে এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে এসব ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করছে, যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না এবং ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। তার ভাষ্য, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলেই কিছু মহল জামায়াতের বিরোধিতা করছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

