২০২৩ সালের ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে নিখোঁজ হওয়া বরগুনার ১৭ জেলের সন্ধান মিলেছে ভারতের গুজরাটের কারাগারে। মৃত ভেবে শোক পালন করেছিলেন তাদের স্বজনরা, কিন্তু দুই বছর পর জীবিত থাকার খবর পেয়ে উপকূলীয় এলাকায় আনন্দের স্রোত বইছে। এদিকে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রলয়ঙ্করী থাবায় ঝড়ের কবলে পড়ে ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি ট্রলারসহ নিখোঁজ হন বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘসময় পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রিয়জনের কোনও খোঁজ না পেয়ে এক সময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন স্বজনরা। এক পর্যায়ে তাদের মৃত ভেবে নিয়েছেন পরিবার। দীর্ঘ দুই বছর পর হঠাৎ করে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়া ১৭ জেলে জীবিত আছেন; তবে ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তাদের যেন দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে সরকার।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, আল্লাহ যেন তাদের দিলটা নরম বানাইয়া দেয়। বাবুদের যেন ছেড়ে দেয়। আর আমাদের তো এতো টাকা নাই যে, তালাশ দিয়া খুঁইজা আনতে পারবো।
তারা আরও জানান, আমাদের বিষয়টা কেউই গুরুত্ব দেয় না। সরকার যেন আমাদের বিষয়টা একটু গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।
তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের স্বজনরা কেউই বরগুনা মৎস্য দপ্তরে অভিযোগ করেনি। তারা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুতই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সঠিক মাধ্যমে আবেদন না করার কারণে, আমরা সরাসরি কাজটা করতে পারছি না। তারা প্রথমে একটা জিডি করে, ওনাদের যে আইডি কার্ড আছে এবং তাদের কাছে এফআইডি কার্ড আছে; সেটার মাধ্যমে আমাদের কাছে, জিডির কপিসহ আবেদন করলে আমরা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাজটি তরান্বিত করতে পারবো।’
সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প থেকে বরগুনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় তথ্য আসে- নিখোঁজ জেলেরা গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি আছেন। পরে তালিকা অনুযায়ী নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠায় এসবি।
এদিকে, বরগুনা পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকার এসবিতে জানালে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘গুজরাটের একটি কারাগারে ১৭ জেলে আছে। তবে সঠিক কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারপর আমি এসবিকে জানাই। এরপর এসবি বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়।’
এদিকে, বিষয়টি অবগত আছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘জেলেরা যেন দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন, তার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের দেশেও আইন আছে তাদের দেশেও আছে, অনেক সময় কাগজে-পত্রের কারণে বিষয়টি আটকে যায়। এমন করে বছরখানেক সময় লেগে যায়। বিষয়টি আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেন উপদেষ্টা।’
ইলিশের মৌসুম মানেই উপকূলে নিম্নচাপ আর ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ক। উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিবছরই নিখোঁজ হন অনেক জেলে। উপার্জনের একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে একদিকে প্রিয়জনের ফেরার আকুল প্রতীক্ষা; অন্যদিকে দারিদ্র্যের কশাঘাতে বিপন্ন হয়ে পড়ে উপকূলের শত শত জেলে পরিবার।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

