রাতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করত ‘সাইকো সম্রাট’ ছয়জনকে হত্যার দায় স্বীকার

মঙ্গলবার,

২০ জানুয়ারি ২০২৬,

৭ মাঘ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

২০ জানুয়ারি ২০২৬,

৭ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

রাতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করত ‘সাইকো সম্রাট’ ছয়জনকে হত্যার দায় স্বীকার

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:২১, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
রাতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করত ‘সাইকো সম্রাট’ ছয়জনকে হত্যার দায় স্বীকার

ঢাকার অদূরে সাভারের ব্যস্ততম থানা রোড। ওই সড়কের পাশে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার। দোতলা ভবনের আশপাশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস। কমিউনিটি সেন্টার থেকে ৫০০ গজ দূরত্বে সাভার মডেল থানা। সাভার কলেজ, প্রেস ক্লাব, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রয়েছে সেখানে। গত সাত মাসে কোলাহলপূর্ণ এই এলাকার পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছয়টি লাশ।  

সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ ভবঘুরে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানায়, তার নাম মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট। তবে ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। মশিউরের ভাষ্য, তার বাড়ি সাভারে। তবে পুলিশ সন্দেহাতীতভাবে তার নাম, পরিচয় ও ঠিকানার ব্যাপারে তথ্য পায়নি। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোববারের দুটিসহ ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মশিউর। গতকাল সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

সোমবার রাতে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘মশিউর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, ভবঘুরে টাইপের যেসব লোক পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে ঘুমাতে যেত, তাদের গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতো। এরপর কয়েকটি লাশে আগুন ধরিয়ে সে পুড়িয়ে দেয়। তার দেওয়া বক্তব্য আরও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তার বাড়ি কোথায়– এখনও পরিষ্কার নই আমরা। কেন সে এসব খুনে জড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ধারণা করছি, ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যার শিকার হয়েছে ছয়জন। মশিউরের কাছে দেয়াশলাই থাকত। খুনের পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দিত।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একের পর এক এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের পর সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয় পুলিশ। জেলা পরিষদ ও সাভার পৌরসভার মধ্যে মামলার কারণে ওই ভবনটি বেশ কিছু দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। 

এর আগে সোমবার সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, মশিউর দিনে ভবঘুরের মতো সরকারি হাসপাতাল ও থানার সামনেসহ সাভারের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করত। মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা চেয়ে নিয়ে চলত। কখনও ভালো আবার কখনও পাগলের মতো আচরণ করত। এ জন্য অনেকেই তাকে ‘সাইকো সম্রাট’ বলে ডাকত। কিন্তু এই সাইকো সম্রাটই রাতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করত। গত সাত মাসে ছয়জনকে হত্যা করে গুমের উদ্দেশ্যে লাশ রাতের বেলায় পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউিনিটি সেন্টারে ফেলে রাখত সে।  

আরাফাতুল ইসলাম জানান, কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একটি মরদেহ কাঁধে নিয়ে ভবঘুরে মশিউর হেঁটে যাচ্ছে। এর পরই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভবঘুরে হিসেবে আমরা তাকে জানলেও, তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সর্বপ্রথম গত বছরের ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারটির দ্বিতীয় তলা থেকে হাত বাঁধা ও অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (৩০) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১১ অক্টোবর ভবনটির দ্বিতীয় তলার বাথরুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (৩০) এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর ভবনটি থেকে আবারও অজ্ঞাতপরিচয় (৩৫) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত রোববার একই তলা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ (২৫) এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক মেয়ে শিশুর (১৩) আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর বাইরে সাভার মডেল মসজিদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয়ই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিটি ঘটনার পর আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা হয়েছে। 

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, গত রোববার দুপুরে ৯৯৯-এর মাধ্যমে পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দুটি মরদেহ পড়ে আছে বলে জানতে পারে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যা মামলা করেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের