ইরান যুদ্ধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি থেকে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
নতুন প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, একজন অজ্ঞাত নারী ২০১৯ সালে এফবিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি কিশোরী অবস্থায় ১৯৮০-এর দশকে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্যাতনের সঙ্গে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন ও ট্রাম্প দুজনই জড়িত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো আগে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে দাবি করা হয়। হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ বাড়ার পর গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এসব নথি প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো এখন পর্যন্ত এপস্টেইন ফাইল থেকে প্রকাশিত সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের সময় এই নথি প্রকাশ হওয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।
ওই নারীর প্রধান অভিযোগ হলো, ট্রাম্প তাকে জোর করে ওরাল সেক্স করতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তিনি ট্রাম্পের পুরুষাঙ্গে কামড় দেন। তখন ট্রাম্প তাকে আঘাত করেন বলে তিনি এফবিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন। তবে এই অভিযোগগুলো যাচাই করা হয়নি এবং এফবিআই তার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো মামলা করেনি। তদন্তকারীরা বলছেন, তার বর্ণনার কিছু অংশ অস্বাভাবিক বা অবিশ্বাস্যও মনে হয়েছে।
বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে, তারা এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি গোপন করেছে এবং গত বছরের শেষ দিকে মূল নথিগুলো প্রকাশ করেনি। এফবিআইয়ের মেমোগুলোতে ওই অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে করা চারটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি সামনে আসেন যখন তার এক শৈশবের বন্ধু তাকে একটি ছবি পাঠায় এবং তিনি ছবিতে জেফরি এপস্টেইনকে চিনতে পারেন।
ওই নারীর দাবি অনুযায়ী, তিনি কিশোরী থাকতেই এপস্টেইন তাকে নির্যাতন করা শুরু করে। একবার, যখন তার বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, এপস্টেইন তাকে গাড়িতে করে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে নিয়ে যায় এবং বলে যে তাকে টাকা আছে এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে যাকে তিনি ট্রাম্প বলে শনাক্ত করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লিভিট এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই এবং অভিযোগকারী নারী একজন মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, যার অতীতে অনেক অপরাধের ইতিহাস রয়েছে।
লিভিট আরও বলেন, জো বাইডেনের (সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট) বিচার বিভাগ চার বছর ধরে এই অভিযোগের কথা জানত, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার মতে, যদি অভিযোগের ভিত্তি থাকত তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হতো। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি প্রমাণ করে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ভুল করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পরেও ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

