ইরান এবারই কেন সবচেয়ে শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ চালাল, জানালেন বিশ্

মঙ্গলবার,

১০ মার্চ ২০২৬,

২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১০ মার্চ ২০২৬,

২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

ইরান এবারই কেন সবচেয়ে শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ চালাল, জানালেন বিশ্

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০১, ১০ মার্চ ২০২৬

Google News
ইরান এবারই কেন সবচেয়ে শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ চালাল, জানালেন বিশ্

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ডেভিড হার্স্ট। তার মতে, একজনের ব্যক্তিগত অহংকার এবং আরেকজনের ‘ধর্মীয়-রাজনৈতিক স্বপ্ন’ এই সংঘাতকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা থেকে এখন বের হওয়ার স্পষ্ট কোনো কৌশল নেই।

হার্স্ট লিখেছেন, মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন। কখনও তিনি ইরানে গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান বা এতে উসকানি দিয়েছেন। কখনও আবার দেশটির নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করেছেন। এমনকি ইরানের পরবর্তী নেতা বেছে নেওয়ার বিষয়েও প্রকাশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সদ্য সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকে ট্রাম্প ‘ইরানি জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ইরানের লাখো মানুষ সড়কে নেমে গণ শোক প্রকাশ করেছে। এতে বরং দেশটির সরকার আরও জোরালো জনসমর্থন পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, খামেনির সময় ইরান অনেক ক্ষেত্রে হিসাব করে সীমিত পরিসরে প্রতিক্রিয়া দেখাত। দেশটি সাধারণত উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর সরাসরি হামলা করা এড়িয়ে যেত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমারেখা এবং সহনশীলতা বদলে গেছে।

হার্স্টের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরব দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

এর আগে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর একাধিক বড় আঘাত এলেও তেহরান এত ব্যাপক পরিসরে পাল্টা হামলা চালায়নি। উদাহরণ হিসেবে, মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পরও ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। একইভাবে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নিহত হওয়ার ঘটনাতেও এমন বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও সরাসরি পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।

তিনি লিখেছেন, এই সংঘাত ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশকে জড়িয়ে ফেলেছে। ড্রোন হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে উপসাগরীয় কয়েকটি শহরও হুমকির মুখে পড়েছে। আকাশপথে চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ইরানে জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রতি সমর্থন আরও শক্ত হয়েছে।

হার্স্টের মতে, ট্রাম্প যদি দ্রুত ইরানকে দুর্বল করতে না পারেন, তাহলে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারে। এর ফলে তেলবাজার, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তার মতে, এই সংঘাতের মূল্য দিতে হচ্ছে পুরো অঞ্চলকে। হাজারো সাধারণ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকেই বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দুই নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের