দীর্ঘ ২৭ বছরের আইনি লড়াই ও পরিচয় সংকটের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাবার স্বীকৃতি পেলেন চট্টগ্রামের আশরাফ উদ্দীন। ডিএনএ পরীক্ষায় জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ার পর আপোষের মাধ্যমে বিরোধের সমাপ্তি ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০০ সালে। মুকছুদুল আলম মুরশেদের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পরই কর্মসূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি চলে যান মুরশেদ। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন জেসমিন। পারিবারিক বিরোধের জেরে ছয় মাসের মাথায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০১ সালে আশরাফ উদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর থেকেই তিনি নিজেকে মুরশেদের সন্তান দাবি করে আসলেও বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন মুরশেদ। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও আইনি জটিলতা।
২০২৪ সালে আশরাফ প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাবার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং একাধিক দফা আলোচনার পর ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষায় আশরাফ, তার মা জেসমিন আক্তার এবং মুকছুদুল আলম মুরশেদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯ শতাংশ জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত হলে আশরাফকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন মুরশেদ।
চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সুব্রত দাশ জানান, ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষের মাধ্যমে ১৩ দফা শর্তে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। শর্ত অনুযায়ী আশরাফ বাবার বাসার নিচতলায় বসবাস করবেন এবং পারিবারিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তাকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বাবা মুকছুদুল আলম মুরশেদ বলেন, 'ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়ার পর আমি আশরাফকে আমার সন্তান হিসেবে মেনে নিয়েছি।' অন্যদিকে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় আশরাফ উদ্দীন বলেন, '২৭ বছর পরিচয়হীন ছিলাম। আজ বাবার স্বীকৃতি পেলাম।'
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাপ্তি ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষকে শুভেচ্ছা উপহারও প্রদান করা হয়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

