সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও সরকারি কাজ বন্ধের অভিযোগে হওয়া মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদলতের বিচারক মো. সাইদুর রহমান তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালত নজরুলের সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
মো. নজরুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৫ মে রাতে শ্যামনগরে পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলা করেন এতে মো. নজরুল ইসলাম, তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় জাইকার প্রকল্পের নামে তাঁর জমি দখল, হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান দখলসহ সরকারি গাছ কাটার প্রতিবাদ করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
উচ্চ আদালত থেকে মো. নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষে গতকাল তাঁরা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাঁরা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী জানান, পরবর্তী যে দিন ধার্য করা হয়েছে, সে দিন তারা জামিন প্রার্থনা করবেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

