স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী

বুধবার,

২৬ আগস্ট ২০২৬,

১১ ভাদ্র ১৪৩৩

বুধবার,

২৬ আগস্ট ২০২৬,

১১ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৫১, ২৬ আগস্ট ২০২৬

Google News
স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী

চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হঠাৎ করে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধক রাখা স্বর্ণ নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে না পারার অভিযোগের মধ্যেই তাঁদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্বর্ণের মালিকদের মধ্যে। তবে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। পিন্টু দাস ছাড়াও তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাসকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বিভিন্ন কারণে ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার ব্যবসা করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে অনেকের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে পারেননি পিন্টু দাস। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিকবার দোকান পরিবর্তনের পর প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা শুরু করেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দিয়ে তা বন্ধক রাখা হতো। তাঁর মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান বলেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

রাসেল খান জানান, এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁরাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা (ফুল মিয়া) বলেন, ‘পিন্টু দাস আমাদের সমিতির সদস্য। তিনি বন্ধক রেখে স্বর্ণের ব্যবসা করতেন বলে আমরা জানি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।’

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস স্বপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, বিষয়টি আজই জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে জানতে পেরেছি, তাঁর কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো কেউ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি।’

এদিকে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হঠাৎ করে খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ তাঁরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে ধারণা করলেও পুলিশ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের