রোববার,

১৬ মে ২০২১

দেশের ৬০ ভাগ মানুষ জানেন না হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ১ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৭:০১, ৬ জানুয়ারি ২০২১

দেশের ৬০ ভাগ মানুষ জানেন না হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপের তথ্য মতে, দেশের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ খাওয়ার আগে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে জানে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বিবিএস, ইউনিসেফ এবং ওয়াটারএইড এর যৌথ উদ্যোগে জরিপটি পরিচালিত হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৬৮ শতাংশ বাবুর্চি রেস্তোরায় তাদের কাজের সময় হাত ধোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

অনুষ্ঠানে জরিপের মূল ফলাফল তুলে ধরেন বিবিএসের ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইংয়ের পরিচালক মো. মাসুদ আলম। এর আগে ২০১৮ সালে এই জরিপের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

মো. মাসুদ আলম জানান, ন্যাশনাল হাইজিন সার্ভে ২০১৮ প্রতিবেদনে পাঁচটি পৃথক ক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলো হলো- গৃহস্থালি, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোঁরা এবং ফুটপাতের খাদ্য বিক্রেতা। এই ক্ষেত্রগুলোয় এসডিজির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সূচক, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ ইত্যাদির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে জরিপটি করা হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকার, স্যানিটেশন সুবিধাগুলো দেখতে তাৎক্ষণিক যাচাই এবং বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা, হাত ধোয়া পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, উন্নয়নখাতে প্রমাণভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে এ জরিপের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি এ জরিপ হতে এসডিজি সূচক ৬.২.১ ‘সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার সুবিধাসহ নিরাপদ ব্যবস্থাপনার স্যানিটেশন সেবা ব্যবহারকারী জনসংখ্যার অনুপাত’ এর তথ্য পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে এবং এ অনুসারে, বিশেষত কোভিড-১৯-এর উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) মেনে চলার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল হাইজিন সার্ভে-২০১৮ একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ, যা আমাদের ঘাটতিগুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জগুলো সামনে নিয়ে আসে এবং দেশব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সর্বোপরি, প্রতিবেদনটি কেবল ‘ওয়াশ’ খাতে যারা কাজ করেন শুধু তাদের জন্যই নয়, বরং যারা জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং খাদ্য সুরক্ষা বিষয়ে আগ্রহী তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স।

প্রতিবেদনটি ওয়াশ, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং খাদ্য সুরক্ষা ক্ষেত্রে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। তারা সুস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন গড়ে তোলার ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে বিস্তৃত পরিসরে উদ্যোগ নেয়ার প্রতি জোর দাবি জানান বক্তরা

বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিতত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) তুষার মোহন সাধু খাঁ প্রমুখ।

সম্পর্কিত বিষয়: