উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে সারা বছর তাজা সবজি উৎপাদন একসময় প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হতো। কিন্তু চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী লাসার তাকজে জেলায় জাদু দেখিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিচালিত কনটেইনার। এই স্মার্ট চাষাবাদ পদ্ধতি ঋতুভিত্তিক কৃষির পুরনো সীমাবদ্ধতাকে ধীরে ধীরে অতিক্রম করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ ধরনের স্মার্ট কনটেইনারের সংখ্যা ৭টি থেকে বাড়িয়ে ২০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম কঠিন কৃষি পরিবেশ হিসেবে পরিচিত এই উচ্চভূমিতে স্মার্ট কৃষির বিকাশে উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।
বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা সাতটি কনটেইনারের প্রতিটির আকার প্রায় একটি শিপিং কনটেইনারের সমান। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এসব কনটেইনারে শাক-সবজি, মাশরুম এবং ঔষধি ফসল উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
পরীক্ষামূলক ফলাফলে দেখা গেছে, একটি কনটেইনারে প্রতি ১০ দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার কেজি উন্নতমানের অয়েস্টার মাশরুম অথবা ২২৫ কেজিরও বেশি শাক-সবজি উৎপাদন সম্ভব। প্রচলিত খোলা মাঠে চাষের তুলনায় এসব কনটেইনারে উৎপাদন কয়েক গুণ বেশি।
তাকজে আধুনিক কৃষি শিল্প পার্কের প্রধান লোপসাং থেনচিন বলেন, ‘এই প্রযুক্তি উচ্চভূমির কৃষিকে আবহাওয়ানির্ভর চাষাবাদ থেকে স্মার্ট কৃষিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করছে এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের উপযোগী নতুন কৃষি উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলছে।‘
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৩ হাজার ৭০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত তাকজে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি উৎপাদনে নানা প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। এখানে, বছরে মাত্র ১২০ থেকে ১৫০ দিন তুষারমুক্ত সময় থাকে। এ ছাড়া দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য, তীব্র মাত্রার অতিবেগুনি রশ্মি এবং শীতল আবহাওয়া ফসল উৎপাদনকে কঠিন করে তোলে।
প্রতিটি কনটেইনারের ভেতরে এআই প্রযুক্তি আলো, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং পুষ্টি উপাদানের মাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে কিছু মাশরুম ও শাকজাতীয় সবজির উৎপাদনচক্র মাত্র এক সপ্তাহে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। প্রথম দফার কৃষিপণ্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের পরিধিও সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক এবং চিয়াসিং চোংখে ইন্টারনেট অব থিংস প্রকৌশল প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপ-পরিচালক চ্যাং পিন বলেন, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সহজে স্থানান্তরযোগ্য নকশা।
সিচাং কৃষি ও পশুপালন বিজ্ঞান একাডেমির সবজি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক ইয়াং ইয়াহুই বলেন, স্মার্ট চাষাবাদ কনটেইনার প্রচলিত কৃষির বিকল্প নয়; বরং এটি তার কার্যকর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উচ্চভূমিজুড়ে কৃষির আধুনিকায়নের পরবর্তী ধাপের জন্য আরও বেশি তরুণ দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে স্মার্ট কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

