জুলাই অভ্যুথানের অর্জন একক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এই অর্জন দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের— এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হতাহত সবাইকে রাষ্ট্র অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। স্বৈরাচারের যথার্থ বিচার করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো বিভক্তি নয়, সবাইকে ঐকবদ্ধ থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
২০২৪ সালের রক্তস্নাত জুলাই; টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন এবং স্বৈরাচারের পতন। নিজেদের অধিকার আদায়ে প্রাণ দেয় শিশু-তরুণ, বৃদ্ধসহ সহস্রাধিক। আর এতেই তৈরি হয় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
সেই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আজ (শনিবার, ৪ জুলাই) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গেলো ১৭ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হতাহতসহ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহত সবাই অবশ্যই রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পাবে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়। স্বৈরাচারের অবশ্যই বিচার হবে। তবে বিচারের নামে কোনো অবিচার করবে না বর্তমান সরকার।’
কোনো বিভক্তি নয়, সবাই ঐকবদ্ধ থেকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে—এমন আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের, স্বজনরা। প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদে আশপাশ ভারী হয়ে উঠে। বজ্র কণ্ঠে দাবি উঠে নারকীয় সেই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।
গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া আহতরা অভিযোগ করেন, জুলাইকে ব্যবহার করে একটি মহল নানা সুবিধা নিয়েছে। জুলাইকে পণ্য না ভেবে, ধারণ করার আহ্বান জানান তারা।
এছাড়া এ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশুলিয়া, চাঙ্খারপুল, রামপুরা, উত্তরা, যাত্রাবাড়ীসহ ২৪ এর নারকীয় হত্যাকাণ্ডে সাজার বিষয়ে সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘শিগগিরই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

